শহীদদের স্বজনদের সামনে দাঁড়ালে নিজেকে অপরাধী মনে হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং গুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে জুলাইয়ের আন্দোলনে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আত্মত্যাগ জাতির জন্য গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করে তিনি এই আত্মত্যাগ যেন কখনো বিস্মৃত না হয়, সে জন্য ইতিহাস মনে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আজ রোববার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান।
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন রাষ্ট্র নির্মাণের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে, যার যথাযথ সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
তিনি অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের মধ্য দিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের লক্ষ্যে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে ভিন্নমত দমনে হত্যা, গুম ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছিল।
স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বারবার সংগ্রাম করেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এবারও সেই দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ নতুন স্বপ্ন ও আশার জন্ম দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অল্প সময়ের মধ্যে ১৫ বছরের লুটপাট, ধ্বংস ও অব্যবস্থাপনা দূর করা সম্ভব নয় হলেও রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।