জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নতুন দাবি: আগে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’, এখন বলছেন ‘জিম্মি’ হয়েছিলেন

Share
 

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই রাজধানীর মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার অফিসে গিয়ে তিনি ও তার দুই স্ত্রী কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তির হাতে জিম্মি হন এবং তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়।

এমপির ভাষ্যমতে, ওইদিন তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমকে নিয়ে মরিয়ামের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে তাদের জিম্মি করে টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমপি দাবি করেন, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে মাসুম বিল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধ।

গাজী নজরুল ইসলামের অভিযোগ, প্রতিহিংসাবশত ওবায়দুল্লাহ তাদের দম্পতির ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে ও প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই মরিয়াম বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল, তাই এটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক বলে প্রচার করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রথমে একপক্ষ দাবি করেছিল এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। তবে রিউমর স্ক্যানার জানায়, ভিডিওটি ভুয়া নয়, বরং আসল। পরে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ওই নারীকে এমপির ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে দাবি করা হয়। এদিকে ঘটনার পর কেন এমপি আইনানুগ ব্যবস্থা নেননি, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তার পোস্টে অনেকেই সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন, কেউ কেউ তার ব্যাখ্যাকে অবিশ্বাস্য বলেও মন্তব্য করেছেন।