ভুয়া বিসিএস ক্যাডার প্রতারক মো. মোশাররফ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরে ভুয়া বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে তরুণীদের সঙ্গে প্রতারণা, অবশেষে আটক

Share

কখনো নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা, কখনো প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন প্রতারণা চালিয়ে আসা এক যুবক অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। তার নাম মোশাররফ হোসেন (২৮), বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের নওখৈর গ্রামে।

জানা গেছে, নিজেকে ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার, ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডার এবং ৪৯তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বলে দাবি করতেন মোশাররফ। নামীদামি ব্র্যান্ডের পোশাক পরে ছবি তুলে নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে এই ভুয়া পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতেন তিনি। এই কৌশলের আড়ালে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর শহরের কালুর মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যানুযায়ী, প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিচয়েই ওই ছাত্রাবাসে উঠেছিলেন মোশাররফ এবং এই পরিচয়ের কারণে সেখানকার ছাত্ররা তাকে যথেষ্ট সমীহও করত। তবে কিছুদিন আগে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা থাকার তথ্য জানতে পেরে ছাত্ররা প্রশ্ন তুললে তিনি ছাত্রাবাস ছেড়ে চলে যান। মঙ্গলবার ভোরে নিজের জিনিসপত্র নিতে আসলে ছাত্ররা তাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, যেখানে বেরিয়ে আসে তার প্রতারণার নানা কাহিনি। যদিও জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রকৃতপক্ষে এসএসসি পাস বলে স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, তার আটকের সংবাদ পেয়ে রাঙামাটি থেকে এক ভুক্তভোগী তরুণী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরে এসে পৌঁছান, আর নীলফামারী থেকেও আরেক তরুণীর অভিভাবক দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করেছেন। মোশাররফের ব্যবহৃত মোবাইলে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, যা ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

রাঙামাটি থেকে আসা ওই তরুণী জানান, কয়েক মাস আগে ফোনে মোশাররফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত মার্চে মোশাররফ তাকে জানান, তিনি ৪৬তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং গেজেট প্রক্রিয়াধীন, তবে তার সঙ্গে আগে থেকে সম্পর্ক থাকা আরেক তরুণী কিছু সমস্যা তৈরি করছেন। এই সমস্যা সমাধানের অজুহাতে তার কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন মোশাররফ বলে অভিযোগ তার। এমনকি দুইবার তার বাসাতেও গিয়েছিলেন তিনি। এপ্রিলে টাকা ফেরতের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর টাকা না দিয়ে উল্টো বিষয়টি ভুলে যেতে বলেন মোশাররফ। পরবর্তীতে ওই তরুণী কক্সবাজার থানায় মামলা করেন।

এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক নারীর সঙ্গে মিথ্যা পরিচয়ে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন মোশাররফ। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় একটি প্রতারণা মামলা এবং নীলফামারী সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে বিয়ে করার অভিযোগে আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন, যেগুলো যাচাই করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।