স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রথমে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দিয়ে শুরুর দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটিতে দলটির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই দাবি জানান।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সূচনা হলে সারা দেশেই নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হবে। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার প্রায় দুই বছর পার হলেও ঢাকার দুই সিটিসহ যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোতে ভোট আয়োজন না করে ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা পরিষদের দিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে সেটিকে সরকারের ভীতি বা কোনো ষড়যন্ত্র-কারসাজির লক্ষণ হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এমন চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে এবং জনগণের রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে, নইলে সরকার বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সুবিধাভোগী হয়েও বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলে বিএনপিকে এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমিরের দায়িত্বেও থাকা সেলিম উদ্দিন সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে বিদেশযাত্রার অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানান সরকারের প্রতি। তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকা শেয়ারবাজারে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ থাকা এই সাবেক রাষ্ট্রপতির বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দেশত্যাগের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বিষয়টি তদন্তের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে দেশেই তাঁর চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।
রাজধানীর নাগরিক সেবা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, ঢাকা শহর চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির নগরীতে পরিণত হয়েছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিকল্পনার অভাবে শহর ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়া নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই প্রমাণ।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।