সমাজকল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন

দেশে স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ নেই: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ

Share

দেশে কোনো অবস্থাতেই স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (জেটেব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

ডা. জাহিদ বলেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা নিষ্ক্রিয় নেই, তাদের সহযোগীরাও সক্রিয় রয়েছে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করা হলেও জনগণ তা ব্যর্থ করে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে, তবে বিএনপি সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অধিকার রক্ষায় বিশ্বাসী এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে কাজ করে যাবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি, যেখানে অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের কোনো স্থান থাকবে না।

জুলাই-আগস্টে নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রসঙ্গে তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে, যা জুলাই শহীদ, গুমের শিকার ব্যক্তি এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করবে। তিনি বলেন, অনেক জুলাই শহীদের কবর শনাক্ত করা গেলেও গুম হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, তাদের পরিবার জানে না তারা জীবিত না মৃত।

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছে এবং জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে বলে দাবি করেন ডা. জাহিদ। তিনি বলেন, যখনই গণতন্ত্র সংকটে পড়েছে, বিএনপি সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আলোচনায় তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৪ সালের আন্দোলন, ওয়ান-ইলেভেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা তুলে ধরেন এবং অতীতে ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগ করেন।

জেটেবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতাকর্মী ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।