জুলাই শহীদদের গেজেট ও কবর সংরক্ষণে দ্রুত ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

Share

জুলাই আন্দোলনে শহীদদের মধ্যে যারা এখনো গেজেটভুক্ত হননি, তাদের দ্রুত তালিকাভুক্ত করার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। একইসঙ্গে শহীদদের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও পাকাকরণের উদ্যোগও দ্রুত বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, শহীদ পরিবারগুলোর সমস্যা নোট করে নেওয়া হয়েছে এবং সেসব সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, সফরসূচি অনুযায়ী পাঁচটি শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা থাকলেও পরে আরও দুটি পরিবারের সন্ধান মেলে। এর একটিতে জানা যায়, ৩০ জুলাই শহীদ হওয়া এক ব্যক্তি এখনো গেজেটভুক্ত হননি। বিষয়টি জানার পরপরই সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে সংসদেও আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের প্রাথমিক প্রতিবেদনে শহীদের সংখ্যা প্রায় ১,৪০০ বলা হলেও পরে সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ২,০০০ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৮৪৩ জনকে গেজেটভুক্ত করতে পেরেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তোলেন এবং বলেন, যথাযথভাবে দায়িত্ব পালিত হলে দুই বছর পরও শহীদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে এত জটিলতা তৈরি হতো না।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মাতুয়াইল কবরস্থানে জুলাই আন্দোলনের ১৭ জন শহীদকে দাফন করা হলেও তাদের কবর এখনো স্থায়ী বা পাকা করা হয়নি এবং কোনো স্থায়ী বরাদ্দও দেওয়া হয়নি—যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ কাজে বাজেট বরাদ্দ ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির ছায়া দেখা গেছে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শেষে এসব কবর দ্রুততম সময়ে স্থায়ী ও পাকাকরণের ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে তিনি নিজেই ১২টি গেজেট বাতিল করেছেন। তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্টরা প্রকৃতপক্ষে জুলাই আন্দোলনে নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পক্ষে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অবস্থানকালে নিহত হয়েছিলেন। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের গেজেট বাতিল করা হয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে কেউ গেজেটভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করলে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।