শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান, এটা অনেকে চাননি: নাহিদ ইসলাম

Share

অনেকেই শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি চাইলেও রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন চাননি বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এমনকি শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করুন, এটাও অনেকে চাননি। তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে বিরোধী দল হিসেবে টিকিয়ে রাখা। তবে দেশের জনগণ বুঝতে পেরেছে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক নয়।

রোববার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. ইসমাইল, সভাপতিত্ব করেন আব্দুল্লাহ আল মাহথির।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ হয়েছে। নতুন সরকার এলেও যদি দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ চলতে থাকে, তাহলে এই সংস্কৃতির পরিবর্তন হবে না। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

গত কয়েক মাসে জনগণের মধ্যে যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে তাকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সরকার জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ না থাকলে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। তিনি বলেন, ঐক্যের মূল শর্ত হলো ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা, যা বাস্তবায়িত হলে বর্তমান আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে এনসিপি কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি তার আন্দোলন-অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে সেখানে আন্দোলন কিছুটা দেরিতে গতি পায়। তিনি জানান, আন্দোলনের এক পর্যায়ে তাকে হলের একটি কক্ষে আটকে রেখে বিভিন্ন অভিযোগে ট্যাগ দেয়া হলেও মোবাইল তল্লাশিতে কিছু না পাওয়ায় পরে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি আরও জানান, অন্যান্য ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগ আগেই সরে গেলেও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা ৫ আগস্ট বিকাল পর্যন্ত অবস্থান করে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, সাধারণ পরিবারের সন্তানরা রাষ্ট্র নিয়ে কথা বলবে, এটা অনেকে মেনে নিতে পারছেন না। তিনি এক-এগারোর সময়ের রাজনীতি মাইনাসের প্রচেষ্টার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে বলেন, তারা বৈধ উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চান, এটি কোনো লোভ নয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বিদায় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনে চোখ হারানো ছেলেদের ন্যায়বিচার এখনও নিশ্চিত হয়নি।