রাজধানীতে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনার পেছনে দুই পক্ষের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই দাবি করে বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ না জেনেই সালমান মুক্তাদির বিএনপির ওপর দায় চাপিয়েছেন।
পোস্টে রাশেদ খান জানান, নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের সংলগ্ন এলাকায় কিছু সাবেক সরকারি কর্মকর্তার ২৩ কাঠা জমি রয়েছে, যার মধ্যে ৮ কাঠা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তিনি দাবি করেন, সাবেক ওই কর্মকর্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, অতীতে প্রভাব বিস্তার করে এই ৮ কাঠা জমি দখল করেছেন নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক ও আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি নাজিম উদ্দীন, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় জেলও খেটেছেন।

রাশেদ খান আরও জানান, সম্প্রতি নাজিম উদ্দীনের কাছ থেকে ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়ে স্টুডিও তৈরি করেন সালমান মুক্তাদির। তার দাবি অনুযায়ী, নাজিম উদ্দীন সম্প্রতি এমনভাবে তিনটি নতুন গেট নির্মাণ করেন, যাতে অন্য জমির মালিকরা ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন, যা দখলের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের অভিযোগ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা লোকজন ভাড়া করে গেট ভাঙতে গিয়ে নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভেঙে ফেলেন বলে দাবি করেন রাশেদ খান।
তিনি এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে বলেন, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাইতে পারতেন, কিন্তু তা না করে পাল্টা পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপিয়ে দিতে একপ্রকার সহযোগিতা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই দখল ও পাল্টা দখলের সঙ্গে বিএনপি বা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সম্পদ দখল করা শুরু করেছিল, তারাই এখন সব ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করছে। সালমান মুক্তাদিরের উচিত ছিল পুরো ঘটনা জেনে মন্তব্য করা, কিন্তু সব পক্ষের সঙ্গে কথা না বলেই বিএনপির লোকজনকে চাঁদা না দেয়ায় স্টুডিও ভাঙার অভিযোগ তোলেন তিনি, যা রাশেদ খানের মতে যথাযথ নয়। তবে সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দোষীরা যথাযথ শাস্তি পাবে এবং সালমান মুক্তাদির ন্যায়বিচার পাবেন।