রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ১৩ বছর বয়সী সৎমেয়েকে ধর্ষণের দায়ে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আসামি তার মায়ের দ্বিতীয় স্বামী হওয়ায় তারা একই বাসায় বসবাস করতেন।
২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচরের নবীনগর এলাকায় বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে আসামি তাকে ধর্ষণ করে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে সন্তান জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট কামরাঙ্গীরচর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছয় জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। রায়ে আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
জরিমানার ৫ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী শিশু অথবা তার আইনগত অভিভাবক পাবেন। নির্ধারিত সময়ে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে তা আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের সামনে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড; এই দুই ধরনের সাজা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, জামাল হোসেন ১৩ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করেছেন। এ ধরনের অপরাধের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা আদালতের দায়িত্ব। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে আদালত বলেন, এ অপরাধ শুধু ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই নয়, যে সমাজের সে সদস্য, সেই সমাজের বিরুদ্ধেও সংঘটিত হয়েছে।
আদালত আরও বলেন, সমাজের আর্তনাদে সাড়া দিয়ে একটি গুরুতর অপরাধের জন্য যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করা আদালতের দায়িত্ব।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন