প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর মুখ আর অন্তরের কথা এক নয়। তারা ডিসেম্বরে চূড়ান্ত আন্দোলনের হুংকার দিচ্ছে৷ বিগত ১৭ বছর বিএনপি-জামায়াত একসাথে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন করেছে। জামায়াতের উচিত সরকারকে সহযোগিতা করা। অথচ ক্ষমতার মসনদে যেতে মরিয়া হয়ে আওয়ামী লীগের ভাষায় হুংকার দিচ্ছে তারা। আওয়ামী লীগ আর জামায়াতের হুংকারের মধ্যে পার্থক্য নেই।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভাধীন আল জামিয়াতুল ইসলামীয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিবুল্লাহ্ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামীর হুংকার, বক্তব্য, সরকার পতনের অপচেষ্টা সব এক। আওয়ামী লীগ আর জামায়াতের মধ্যে এ মুহূর্তে কোনো পার্থক্য নেই। ডিসেম্বর বাঙালি জাতির বিজয়ের মাস। তবে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী দুই দল সরকার পতনের অপচেষ্টা করছে। স্পষ্ট করে বলতে চাই জনগণ আগামীতে সব অপচেষ্টা, ষড়যন্ত্র আর অগণতান্ত্রিক আন্দোলন রুখে দেবে৷
হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, হেফাজত আমির আল্লামা শাহ্ মুহিবুল্লাহ্ বাবুনগরী বাংলাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরুব্বি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইসলাম, ইমান আর দেশ পুনর্গঠনে ইতিবাচকভাবে সোচ্চার থেকে ভূমিকা রাখেন তিনি। হুজুর (মুহিব্বুল্লাহ্ বাবুনগরী) জান্নাতের টিকিট বিক্রিওয়ালাদের বিরুদ্ধে কোরআন, হাদিসের আলোকে বক্তব্য দিয়ে দেশবাসীকে সর্তক, সজাগ করেছিলেন। সে জন্য সরকার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ্ মুহিবুল্লাহ্ বাবুনগরীকে কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ জানাতে এসেছি।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, হুজুর দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করেছেন এবং দেশ সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়ায় সন্তুষ্টি জানান। পাশাপাশি আমিরে হেফাজত আক্ষেপ করে বলেছেন, এ মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামী লংমার্চ করবে কেন? সবার তো উচিত সরকারকে সহযোগিতা করা, দেশকে পুর্নগঠন করা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহবুবে আলম শামীম, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন কাঞ্চন, নাজিম উদ্দিন শাহীন, হেফাজত নেতা আল্লামা আইয়ুব বাবুনগরী প্রমুখ৷
সূত্র: কালবেলা