নাটোরের লালপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকায় নাম এসেছে এমন এক প্রার্থীর, যিনি বয়সসীমা অতিক্রম করায় ভাইভায় অংশ নিতে পারেননি। তবে ভাইভায় অংশ না নিয়েও কিভাবে তাঁর নাম চূড়ান্ত তালিকায় এলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা ওই প্রার্থীর নাম সোনিয়া খাতুন। তাঁর রোল নম্বর ৪৬৭। তিনি উপজেলার আড়বাব ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম জেনেটের স্ত্রী।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল ৪০ বছর।
তবে সোনিয়া খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৮৪ সালে। সে হিসাবে ২০২৬ সালে তাঁর বয়স ৪১ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে হওয়ার কথা। ফলে নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রমের বিষয়টি সামনে এসেছে।সোনিয়া খাতুন বলেন, ‘আমার বয়স বেশি হওয়ায় ভাইভার দিন আমার মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি।
পরীক্ষক জানান, বয়স ৪০ বছরের বেশি হওয়ায় ভাইভা নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে আমার নাম এসেছে।’তাঁর বক্তব্যের পর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বয়স যাচাই, মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং চূড়ান্ত তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করা এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার পরও একজন প্রার্থীর নাম কিভাবে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাব।’চূড়ান্ত তালিকায় সোনিয়া খাতুনের নাম অন্তর্ভুক্তির কারণ, তার বয়স ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং ভাইভায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি নিয়োগ কর্তৃপক্ষের নথিতে কিভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সূত্র: কালের কন্ঠ