ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক তথা সাদিক কায়েম বলেছেন, যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগমুক্ত হয়েছিল, সেদিনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ আর দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং শেখ হাসিনার পতন অনিবার্য।
শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ক্যাম্পাস নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ডাকসুর উদ্যোগে ‘জুলাইয়ে সঞ্চারিত সাহস: গণরুম-গেস্টরুম পেরিয়ে নির্যাতনমুক্ত ক্যাম্পাস’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ভিপি সাদিক কায়েম।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে বর্তমানে কোনো গণরুম বা গেস্টরুম সংস্কৃতি নেই, নেই কোনো পেশিশক্তির রাজনীতিও। জোরপূর্বক কাউকে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা কিংবা অধিকার হরণের মতো অপরাজনীতিও এখন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত বলে দাবি করেন তিনি।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ডাকসু ক্যাম্পাসে সহিংসতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নিরসনে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ১৭ জুলাইয়ের সন্ত্রাসবিরোধী দিবস থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসন যেন কোনো সংগঠনকে পুনরায় ছাত্রলীগীয় কায়দায় গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার সুযোগ না দেয়, অন্যথায় তাদের জন্য খারাপ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সভায় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের প্রতি আহ্বান জানান, সহ-সমন্বয়ক আবদুল কাদেরের তোলা প্রশ্নের বিষয়ে তারা যেন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে হাসিনার পতনের পক্ষে না বিপক্ষে তাদের অবস্থান ছিল, তা খোলাসা না করলে জনগণ বিভ্রান্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সমন্বয়ক আবদুল কাদের অভিযোগ করেছিলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট ডিবি কার্যালয় থেকে মুক্তির পর হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম আন্দোলনের কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং অন্য সমন্বয়কদের আন্দোলন থামানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
সভায় বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী আশিকও। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিবিরের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে একপাক্ষিক বয়ান প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। তিনি ক্যাম্পাসের আবাসনসংকট নিরসন করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএসরা।