বিবৃতি

সিসি ক্যামেরায় নজর রাখতেন ড্রাইভার, নেপথ্যে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি— ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা বললেন জামায়াত এমপি

Share

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি। বিবৃতিতে নারীটিকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, তার গাড়িচালকই চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ প্রচার করে চরিত্র হননের চেষ্টা চালিয়েছেন।

বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি তার দুই স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগম এবং মরিয়ামের মামা তথা তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে মগবাজারে মো. মাছুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যান। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা সেখানে অবস্থানকালে চালক ওবায়দুল্লাহ কয়েক দফা রুমে ঢুকে বের হন, এক পর্যায়ে দরজা খুলতেই ৫-৭ জন অপরিচিত ব্যক্তি রুমে প্রবেশ করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ব্যাগ-পকেট তল্লাশি চালায়। পরে নিচে একটি বিকাশের দোকানে নিয়ে গিয়ে তাদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে দাবি করেন এমপি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে খুঁজে না পেয়ে তারা বাসায় ফিরে আসেন। রাত আনুমানিক দশটার দিকে ওবায়দুল্লাহ তার কাছে পাঁচ লাখ এবং মরিয়ামের বাবা মাছুম বিল্লাহর কাছে দশ লাখ টাকা দাবি করেন, অন্যথায় গাড়ি ফেরত না দেওয়ার হুমকি দেন। পরদিন রাতে মাছুম বিল্লাহ একজন পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় গাড়িসহ চালককে উদ্ধার করে মারধর করলে ওবায়দুল্লাহ ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়ে চলে যান বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এমপির দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে ওবায়দুল্লাহ ষড়যন্ত্র করে তাদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন এবং ব্যর্থ হয়ে হিংসাবশত আগে থেকে ধারণ করা সিসি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এই কাজকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও চরিত্র হননের শামিল আখ্যা দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নির্বাচনী হলফনামায় তার একজন স্ত্রীর তথ্য থাকলেও বিবৃতিতে দুই স্ত্রীর কথা উল্লেখ করেছেন গাজী নজরুল ইসলাম, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।