নিজের সাথে এক তরুণীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার জেরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে “নজর রাখছে” বলে জানিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী জানায়, বিষয়ে প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার বিকেল থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে সালোয়ার-কামিজ পরা এক তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। প্রথমদিকে তার সমর্থকরা ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও মঙ্গলবার সকাল নাগাদ একাধিক ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করে যে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়।
এরপর বেলা ১২টা ০১ মিনিটে নিজের ফেসবুক পাতায় বিবৃতি দিয়ে ৭৭ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তার পিতার বাসভবনে তাদের বিয়ে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১৩ জুলাই মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার অফিসে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক তথা দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন এবং পরে হিংসাবশত তাদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে দেন।
তবে ভাইরাল হওয়া তরুণীর একটি জীবনবৃত্তান্তে তার বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ এবং জন্মতারিখ ২২ মে ২০০৮ উল্লেখ থাকায় প্রশ্ন উঠেছে— এমপির দাবি করা ১৭ জুন তারিখে তরুণীর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ২৬ দিন। এছাড়া জামায়াতের একজন এমপিকে তার ‘বৈধ’ দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা কেন জিম্মি করে টাকা আদায় করবেন এবং বিবাহিত স্ত্রী হয়ে থাকলে মামা কেন ভিডিও ছড়াবেন— এসব প্রশ্নেরও সন্তোষজনক জবাব মেলেনি এখনো।
বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুরে এমপির প্রথম স্ত্রী পরিচয়ে মাকসুদা ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বিয়ের দাবি সমর্থন করে কুৎসা রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন। এরপর মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় নিজেকে এমপির স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আরেকটি বক্তব্য দেন সেই তরুণীও, যেখানে তিনি দাবি করেন ১৭ জুন শ্যামনগরে তার বাবার বাসায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে ও প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে বিয়ে হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, এমপির দাবি অনুযায়ী তিনি স্ত্রীদের নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন এবং স্ত্রীরাও সামাজিক মাধ্যমে একই কথা বলেছেন। তবে সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এমপি বেআইনি বা অবৈধ কিছু না করলে বিষয়টি তার ব্যক্তিগত, তবে অবৈধ কিছু প্রমাণিত হলে দল ব্যবস্থা নেবে।
উল্লেখ্য, গাজী নজরুল ইসলাম এর আগে পঞ্চম ও অষ্টম জাতীয় সংসদে জামায়াত দলীয় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা বলে সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এদিকে বিতর্কের মধ্যে ‘মেয়েদের শালীনভাবে চলাফেরা ও মাথায় পর্দা রাখার পরামর্শ’ দেওয়া নিয়ে তার একটি পুরনো বক্তব্যের ভিডিওও নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
-বিবিসি অবলম্বনে