কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে সরকারি খালে অবৈধভাবে নির্মিত বাঁধ ও স্লুইসগেটে বসানো জাল অপসারণে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। জলাবদ্ধতা নিরসন ও খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে পরিচালিত এই অভিযানের প্রথম ধাপে ৯টি অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পেকুয়া-চকরিয়া আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে মগনামা ইউনিয়নের মটকাভাঙা এলাকায় এই অভিযান শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি সরকারি খালের বিভিন্ন অংশে অন্তত ৫৮টি অবৈধ কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে এবং স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছেন, যার ফলে বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় ভুগছে মগনামা ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার পরিবার এবং কৃষি ও মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালের পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা বিঘ্নিত থাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে। পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত ৩০টি মৎস্যঘেরের মাছ ভেসে গেছে এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া বসতবাড়ি ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে বহু পরিবার।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারি খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণে উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদকে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
এ বিষয়ে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মোট ৫৮টি অবৈধ বাঁধ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ৯টি অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে এবং জনস্বার্থে পর্যায়ক্রমে বাকি বাঁধগুলোও অপসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
অভিযান চলাকালে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম সার্বক্ষণিক তদারকি করেন। এ সময় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, ইউপি সদস্যরা, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল আলমসহ গ্রাম পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।