সিঙ্গাপুরের আদলে দেশের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতালের ভুতুড়ে অবস্থা

Share
এ যেন পাঁচ তারকা হোটেল। দেখে বোঝার উপায় নেই হাসপাতাল। তাও আবার সরকারি উদ্যোগে দেশের একমাত্র বিশ্বমানের বিশেষায়িত হাসপাতাল এটি।
এখানে পাওয়ার কথা ছিল জটিল রোগের আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা। তবে মিলছে না সিকিভাগ সেবাও। বড় অংশজুড়ে এখন ভুতুড়ে অবস্থা।
২০১৬ সালে শুরু হয়ে নির্মাণ শেষ হয় ২০২২ সালে। ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা। পর পর দুই দফা জাকজমকপূর্ণভাবে উদ্বোধন করা হলেও এখনও পুরোপুরি সচল হয়নি হাসপাতালটি।
সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন,ইট ইজ ইনক্রিজিং ডে বাই ডে। কিন্তু কথা হচ্ছে যে এটা তো একটা পঙ্গু হাসপাতাল। যেখানে কোনো বড় চিকিৎসক নাই, কিছু নাই। উই আর ট্রাইং আওয়ার বেস্ট। ইনশাল্লাহ আগামী তিন মাসের মধ্যে উই উইল স্টার্ট দিস হসপিটাল।
হাসপাতালে ৭৫০ সজ্জা, ১৪টি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার, ১০০ সজ্জার আইসিইউ, ১০০ সজ্জার জরুরি ইউনিট, ছয়টি ভিভিআইপি, ২২টি ভিআইপি কেবিন এবং ২৫টি ডিলাক্স কেবিন রয়েছে। যার সিংহভাগই তালাবদ্ধ।
হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু করতে প্রয়োজন ৩০০ চিকিৎসকসহ প্রায় ১ হাজার ৫০০ স্বাস্থ্য সেবাকর্মী। এরমধ্যে মাত্র ১২০ জন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। যদিও এসব লোকবল কেউই এই প্রতিষ্ঠানের নয়। এবার নতুন করে প্রশিক্ষণের অজুহাতে প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়াতে চায় কর্তৃপক্ষ।
সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন,এই চুক্তি তো আসলে ২০১৬ সাল থেকে আপনার হ্যান্ডওভারের পরে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। প্রতিবারই কিছুদিন পর পর এটা আপনার চেঞ্জ হয়েছে। এ মনে হয় তিন বা চারবার মনে হয় টাইম এক্সটেনশন হয়েছে। আরেকটা কারণ হচ্ছে যে আমাদের ভ্যাট-ট্যাক্স দেয়া হয় নাই। যে ভ্যাট-ট্যাক্সটা গভর্নমেন্ট ফান্ড থেকে আমাদের ভ্যাট-ট্যাক্সটা দেয়া হয়। এই তিনটা কারণে আমাদের টাইম এক্সেশন করতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্প পরিচালকদের অদক্ষতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রক্রিয়াগত দুর্বলতার কারণে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বড় বিনিয়োগেরও সুফল মিলছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, যে কারণে এত বছর চালু হলো না, কোথায় গ্যাপ ছিল? কোন জায়গাটায় গ্যাপ ছিল? আপনি সেই একই ভুল যদি আবার করেন, তাহলে দুই বছর পর আবার সময় বাড়াবেন। সেই জায়গায় যদি আপনি মনোযোগ না দেন তাহলে কিন্তু প্রকল্পের যে উদ্দেশ্য বা যে বেনিফিটটা আমরা এখান থেকে আশা করছি সেটা কিন্তু আসবে না।
হাসপাতাল আছে, আছে যন্ত্রপাতিও। কিন্তু সচল হচ্ছে না সেবা। সংযোজন আর ব্যবহার না হওয়ায় শত শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি এখন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে।
তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ