রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামীকাল শুক্রবারই পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তিনটি সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, বিষয়টির স্পর্শকাতরতার কারণে সূত্রগুলোর কেউই নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েও দিয়েছেন। দুটি সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের কথা গত মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে এবং শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা আসতে পারে।
রয়টার্স উল্লেখ করেছে, এই ঘটনাপ্রবাহের নেপথ্যে রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সাম্প্রতিক ঘোষণা। ভারতে নির্বাসনে থাকা হাসিনা সংস্থাটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি ও তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘোষণার পর রাষ্ট্রপ্রধানের আসন থেকে হাসিনার সর্বশেষ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে সরানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর জনমতের চাপ বেড়ে যায়। রাষ্ট্রপতি নিজেও গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন— সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই তারেক রহমান ক্ষমতায় আসেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই অভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ জন প্রাণ হারান বলে জানা যায়। হাসিনা অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব মেলেনি।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন কেউ স্থায়ীভাবে নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন বলে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাহাবুদ্দিন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হলেও পদটি মূলত আলংকারিক— বাস্তব নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। ৭৬ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ বছরের মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলে তাঁর পদের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।