জুলাই সনদ নিয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থানকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও জাতির জন্য অকল্যাণকর বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইইবি) আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ প্রকৌশলীদের স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির সহযোগী সংগঠন ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (এনইএবি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল।
মারদিয়া মমতাজ বলেন, ২০২৬ সালে ক্ষমতায় আসা সরকারের কাছ থেকে এমন হতাশা তাঁরা কল্পনাও করেননি এবং জুলাই সনদ ইস্যুতে কোনো দ্বিমতের জন্য তাঁরা প্রস্তুত ছিলেন না।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পালিত এক মিনিট নীরবতার প্রথাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘদিন চুপ থাকার পর ২০২৪ সাল থেকে যে সরব হওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে চান তাঁরা— কারণ নীরবতাকে তিনি ফ্যাসিবাদী প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করেন এবং তাই চুপ না থেকে কথা বলার পক্ষে মত দেন।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে অনেক সদস্য স্বাধীন বিচার-বিবেচনা ছাড়াই দলীয় নির্দেশ অনুযায়ী ভোট দেন। এ ছাড়া তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত থাকলেও আইন প্রণেতা হওয়ার জন্য কেন কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই।
সংসদের কার্যপ্রণালি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বিরোধী দল হিসেবে কোনো বিল পাসের মাত্র কুড়ি মিনিট আগে হাতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিলটি ভালো না মন্দ তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তা সঠিক প্রক্রিয়া মেনে উপস্থাপিত হওয়া। বর্তমান সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের শেষ দিনের কার্যধারা পর্যালোচনা করলে এ বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও আইইবির ফেলো মাহমুদুর রহমান, আর প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এনইএবির আহ্বায়ক মো. আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিক মোজাহিদ ও কুয়েটের সাবেক উপাচার্য মাকসুদ হেলালী।