জলাবদ্ধ পরিবেশে অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাতজন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। কলেজটির ইতিহাসে একসঙ্গে এত সংখ্যক শিক্ষক বদলির ঘটনা এবারই প্রথম।
বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ, গণিত বিভাগের একজন অধ্যাপক, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও ইসলামের ইতিহাস-সংস্কৃতি বিভাগের দুইজন সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের একজন প্রভাষক এবং ইংরেজি বিভাগের আরেকজন সহযোগী অধ্যাপক। তাঁদের দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি কলেজে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বদলি হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে কেউ সরাসরি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন না, কেউ জ্যেষ্ঠ সহকর্মীদের অনীহার কারণে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, আবার কেউ পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বা শিক্ষক পরিষদের সম্পাদকের মতো দায়িত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই ভারী বর্ষণে কুমিল্লা শহরের সঙ্গে কলেজ প্রাঙ্গণও পানিতে তলিয়ে যায়, যার ফলে পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডিঙি নৌকায় করে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন, যার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে সারা দেশে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয় এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী।
পরবর্তীতে ১৮ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য কলেজটি পরিদর্শনে গিয়ে জলাবদ্ধতা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে এই ঘটনায় সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
এই বদলি শাস্তিমূলক কি না জানতে চাইলে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মন্ত্রণালয় যেকোনো সময় বদলি করতে পারে এবং এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অংশ, তবে এর বেশি কিছু বলার এখতিয়ার তাঁর নেই বলে জানান তিনি।