স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

মেজর হাফিজ: একজন জীবন্ত কিংবদন্তি

Share

একজন মানুষের জীবনে কতটা অর্জন সম্ভব—তার এক অনন্য উদাহরণ মেজর হাফিজ উদ্দীন আহমেদ (বীর বিক্রম)। বর্ণাঢ্য ও বহুমাত্রিক জীবনে তিনি একাধারে বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, ক্রীড়া সংগঠক, ক্রীড়াবিদ এবং লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তিনি অর্জন করেন বীর বিক্রম খেতাব। যশোর ক্যান্টনমেন্টে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়া এবং একাধিক সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ তার সাহসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতার পর তিনি দেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

রাজনৈতিক জীবনেও তিনি ছিলেন সমানভাবে সক্রিয় ও প্রভাবশালী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। সাতবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া তার জনপ্রিয়তার সাক্ষ্য বহন করে।

মন্ত্রী হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন—বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ক্রীড়াক্ষেত্রে তার সাফল্যও বিস্ময়কর। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সহ-সভাপতি এবং ফিফার আপিল ও ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

শুধু ফুটবল নয়—তিনি ছিলেন একসময় পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব (১৯৬৪–১৯৬৬)। ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণপদক অর্জনের পাশাপাশি ১৯৮০ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন এবং ২০০৪ সালে অর্জন করেন FIFA Order of Merit

শিক্ষাজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি ‘রক্তে ভেজা একাত্তর’, ‘গণতন্ত্র রিমাণ্ডে’, ‘সৈনিক জীবন’সহ একাধিক গ্রন্থ রচনা করে সাহিত্যেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

এক জীবনে এত বৈচিত্র্যময় ও গৌরবময় অর্জন—মেজর হাফিজ উদ্দীন আহমেদ নিঃসন্দেহে আমাদের সময়ের এক জীবন্ত কিংবদন্তি।