Salahuddin Ammar

রাবি ছাত্র মারধরের ঘটনায় রুকসু জিএস আম্মারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে পিবিআই তদন্তের নির্দেশ

Share

রাজশাহী, ৩০ জুলাই: এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রুকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারসহ ৯ ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রাজশাহীর মতিহার থানা এলাকার একটি আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এ তদন্তের নির্দেশনা দেয়।

বুধবার মতিহার আমলি আদালতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মাহিনের বাবা আসাদুজ্জামান এই আবেদন দাখিল করেন। অভিযোগে রুকসু জিএস আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বিরসহ ছাত্রশিবিরের কর্মীদের নাম উল্লেখ করা হয়, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৭-১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

**হামলার বিবরণ**

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভেতরে-বাইরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ছুরি, রড, কোদাল ও বাঁশের লাঠিসহ একদল মাহিনকে ঘিরে ফেলে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগে বলা হয়।

অভিযোগে দাবি করা হয়, সালাহউদ্দিন আম্মার রড দিয়ে মাহিনের মাথা ও কপালে আঘাত করেন, আর সালমান সাব্বিরও রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন, যাতে তার বাঁ চোখে গুরুতর জখম হয়।

অভিযোগে নাম থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন রুকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, সহকারী তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা, জিয়া হল ছাত্র সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল ছাত্র সংসদের ভিপি আহসান উল্লাহ ফারহান এবং নবাব আব্দুল লতিফ হল ছাত্র সংসদের জিএস নূরুল ইসলাম শহীদ।

দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা মাহিনের বুক-পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারধর করে এবং তিনি পড়ে গেলে তাকে শ্বাসরোধ করারও চেষ্টা করা হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পথেও হামলা

অভিযোগকারীর দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীরা মাহিনকে হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করলে আসামিরা তাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে নামিয়ে ফের মারধর করে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার বিকেলে ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি হামলার খবর জানতে পারেন। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার প্রথমে মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তা নিতে অস্বীকৃতি জানান, ফলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

অভিযোগকারীর আইনজীবী হযরত আলী সাংবাদিকদের জানান, আদালত সরাসরি অভিযোগ আমলে না নিলেও পিবিআইকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।