ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদ নিয়ে জামায়াত-এনসিপি সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ

Share

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এ পদে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন চান। তবে একই পদে জামায়াত ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত করছে, ফলে ঢাকা দক্ষিণে দুই দলের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ১১-দলীয় ঐক্য–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। বিষয়টি স্বীকার করেছেন মামুনুল হক নিজেও, তবে তার দাবি, নিজের নির্বাচনী কার্যক্রমে সহযোগিতা চেয়েই যোগাযোগ করেছিলেন আসিফ মাহমুদ। এ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন মামুনুল হকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো এবং এনসিপি নেতাদের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণার বিষয় এখনো অস্পষ্ট থাকায় নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এনসিপি। তবে বিভিন্ন দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, আপাতত এককভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংগঠনিক অবস্থান জোরদার এবং প্রার্থীদের পরিচিতি তুলে ধরার কাজ করছে দলটি। তবে তফসিলের আগে বা পরে গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে সমঝোতা করলে জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে মনে হলে ১১ দলের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

মাওলানা মামুনুল হকের বক্তব্যেও এনসিপির সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আভাস মিলেছে। তিনি জানান, জোটে থাকার কারণে নয়, এমনিতেই এনসিপির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে তাদের। তবে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো দলই চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত নির্বাচন হবে, নাকি দলগুলো স্থানীয় বাস্তবতা অনুযায়ী ভিন্ন কৌশল নেবে—এ প্রশ্নে ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের অবস্থান ইতিমধ্যে কিছুটা স্পষ্ট হলেও, তফসিল ঘোষণার পরই এর প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।