মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম। আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এই ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে, যে দিনটিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি।
রোববার ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়, নয়াদিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া) এই সভার আয়োজক। আমন্ত্রণপত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তাবিত সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করবেন। এর আগে রয়টার্স ও জাপানি বার্তা সংস্থা কিয়োডো নিউজকে দেয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে তিনি আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন।
ইন্ডিয়া টুডের বরাতে জানা যায়, সভার আমন্ত্রণপত্রে আলোচক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সাবেক সংসদ সদস্য ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নাম রয়েছে। এছাড়া প্যানেলে সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশ্লেষক আবু ওবায়দা আরিন, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এবং একটি মার্কিন সংস্থার পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ারের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।
এফসিসি সাউথ এশিয়া ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবের (আইএপিসি) সভাপতি ওয়ায়েল আউয়াদের সভাপতিত্বে নয়াদিল্লির মথুরা রোডের ‘স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে’ এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠান এফসিসির সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণআন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তাকে আর কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। আন্দোলন দমাতে বলপ্রয়োগের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শতাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের হয়েছে, যার একটিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। প্লট-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায়ও তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের সাজা দেয়া হয়েছে।
গত ৯ জুলাই রয়টার্সকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানিয়েছিলেন, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা তার রয়েছে, এবং নির্বাসিত জ্যেষ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতারাও তার সঙ্গে ফিরবেন। সম্প্রতি কিয়োডো নিউজকে দেয়া লিখিত সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী হাসিনা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তবে দেশে ফেরার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সচেতন বলেও জানান।