ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার বিভিন্ন স্থানে নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বা সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী দুদিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং সংলগ্ন উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে ইতোমধ্যে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদীগুলোর পানি আরও বেড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।
রংপুর অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বেড়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর কিছু স্থানে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে, যাতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ধরলা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত করতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী পাঁচ দিনে তা কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে, ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার কিছু স্থানে সোমেশ্বরী নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভুগাই-কংস নদীর পানি শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে।