দিনদুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা ছিনতাই, নেপথ্যে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা

Share

কক্সবাজারের টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে বিকাশের দুই কর্মীর কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার ডাকাতরা সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিল এবং লুট করা টাকার একাংশ অস্ত্র কেনার কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায়, যা দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি, অপহরণ, ছিনতাই ও ইয়াবা পাচারের কারণে ‘আতঙ্কের নাম’ হিসেবে পরিচিত।

গত ২ আগস্ট টেকনাফ স্টেশন থেকে ছাড়া একটি বাসকে অনুসরণ করছিলেন সিএনজিতে থাকা বোরকা পরা এক নারী। তার সংকেতে পাহাড় থেকে নেমে আসা সাত-আট জনের একটি সশস্ত্র দল সড়কে গাছের গুঁড়ি ও পেরেকযুক্ত কাঠ ফেলে বাসের গতি রোধ করে। এরপর অস্ত্রধারী চারজন বাসে উঠে দুই বিকাশ এজেন্টকে ছুরিকাঘাত ও মারধর করে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে পুলিশ পরিকল্পিত অপারেশন হিসেবে দেখছে।

পুলিশ ইতিমধ্যে আক্তার হোসেন, নজরুল ইসলাম, রূপবাহারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং লুট হওয়া টাকার মধ্যে ২ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করেছে। এদের মধ্যে দুইজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কক্সবাজার আদালত পুলিশের পরিদর্শক গোলাম জিলানী জানান, স্বীকারোক্তি দেওয়াদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা এবং একজন লেদা এলাকার বাসিন্দা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান জানান, লুট হওয়া টাকার একাংশ অস্ত্র কেনায় ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মাদক, হত্যা ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং তারা সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিল। ডাকাতদের মূল আয়ের উৎস মাদক, মানবপাচার ও ডাকাতি বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই এলাকায় বিকাশের সেলস সুপারভাইজার মো. হানিফের কাছ থেকে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা লুট হলেও এক বছরেও সেই অর্থ উদ্ধার বা জড়িতদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। এতে ব্যবসায়ী মহলে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে বলে জানান বিকাশ এজেন্টদের ডিস্ট্রিবিউটর আবদুল করিম।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, হ্নীলার পশ্চিম লেদার বাসিন্দা আক্তার হোসেনের (৩৬) নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল সক্রিয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘আক্তার বাহিনী’ নামে পরিচিত। ২০২৪ সালে শীর্ষ ডাকাত শফি গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আক্তার ও আলম মিলে এই দল গঠন করেন। প্রায় তিন দশক ধরে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে বাস চালানো এক চালক জানান, তার চালক জীবনে এই এলাকায় ৫০ বারের বেশি ডাকাতির ঘটনা দেখেছেন বা শুনেছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, তদন্তে অগ্রগতি রয়েছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।