**শিরোনাম অপশন:**
1. লোডশেডিং সংকট সরকারের ব্যর্থতা, ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর না দেয়ার আহ্বান হাসনাতের
2. ‘যুদ্ধ নয়, অব্যবস্থাপনাই দায়ী’— বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা হাসনাতের
3. যমুনার পানি বন্ধক রেখে বিদ্যুৎ করিডোর নয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ
—
**খবর:**
দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের জন্য সরকারের পরিকল্পনাহীনতা ও ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সারাদেশে চলমান লোডশেডিং ও অন্ধকার পরিস্থিতি অনিবার্য ছিল না, বরং প্রতিটি ধাপে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম ইতোমধ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তুলে ধরে বলেছেন, চলমান সংকট মূলত পরিকল্পনাহীনতা ও জ্বালানি ক্রয়ে সিদ্ধান্তহীনতার ফল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ পরিস্থিতির জন্য হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি, যুদ্ধ এবং এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডকে দায়ী করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ তুলে ধরে হাসনাত দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও সরকার সময়মতো মূল্য সমন্বয় না করে পরবর্তীতে একসঙ্গে বড় দাম বাড়ায়, অথচ এর সঙ্গে সমন্বিত কোনো অর্থায়ন পরিকল্পনা ছিল না বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ভর্তুকি কাটছাঁটের ক্ষেত্রে ক্যাপাসিটি চার্জ বা আইপিপির ফিক্সড পেমেন্টে হাত না দিয়ে কয়লা ও ফার্নেস অয়েলচালিত কেন্দ্র এবং আমদানি বিদ্যুতে কাটছাঁট করা হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
মহেশখালীতে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত বলেন, এ ঘটনায় দৈনিক ৫১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হলেও এর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা (ব্যাকআপ) ছিল না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কয়লা, ভারতের বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর কোনো সম্পর্ক নেই, তাই এসবের ঘাটতির প্রকৃত কারণ বকেয়া পরিশোধ ও ক্রয়-পরিকল্পনার ঘাটতিতেই নিহিত বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মূল্য সমন্বয়ের আগে জ্বালানি তেলের যে সংকট তৈরি হয়েছিল তা মূলত মজুদজনিত ছিল এবং দলীয় পরিচয়ের কারণে মজুদদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলার বদলে তা পুঁজি করে বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থাকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্যের বরাত দিয়ে হাসনাত জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে সর্বোচ্চ দৈনিক লোডশেডিং ছিল ৪১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা, জুলাইয়ে ৩২ হাজার এবং আগস্টে তা বেড়ে ৫৩ থেকে ৬২ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া গত ১০ আগস্ট রাত ১টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। তার দাবি অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান—এই তিনটি নথি হালনাগাদ না থাকার সমালোচনা করে হাসনাত বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর অতীত দায়িত্বকালীন সময়ের রেকর্ডও তুলে ধরেন। সোলার হোম সিস্টেমে প্রধানমন্ত্রীর শূন্য শুল্ক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ১৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের অভিযোগও করেন তিনি।
এছাড়া ভারতের সঙ্গে ৭৬৫ কেভি কাটিহার-পার্বতীপুর-বহরমপুর সঞ্চালন লাইন এবং “পাওয়ার কানেক্টিভিটি” নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার দাবি অনুযায়ী, এই করিডোরের মূল উদ্দেশ্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বিদ্যুৎ বাংলাদেশের ভূখণ্ড দিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডে সরবরাহ করা, যা আসবে অরুণাচলে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় পরিকল্পিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনাকে বাংলাদেশের স্বাদু পানির প্রধান উৎস আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নদীর ভবিষ্যৎ বন্ধক রেখে কোনো বিদ্যুৎ করিডোর বাস্তবায়ন মেনে নেয়া হবে না, তবে ভারত, নেপাল বা ভুটান থেকে বিদ্যুৎ, ডিজেল, ক্রুড অয়েল বা এলএনজি আমদানিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বিভিন্ন খাতে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে বরগুনা ও কক্সবাজারের জেলে পল্লীর মাছ ধরার ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না এবং অধিকাংশ বরফকল বন্ধ রয়েছে। সবশেষে তিনি সরকারের প্রতি এনসিপির প্রস্তাবিত সমাধান বাস্তবায়ন এবং যমুনা নদীর পানির ভবিষ্যৎ রক্ষায় ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোরের প্রস্তাবে সম্মতি না দেয়ার আহ্বান জানান।