দক্ষিণ কোরিয়ানভিত্তিক বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড ‘বিটিএস’-এর প্রতি চরম আসক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের প্রভাবে বাড়ি ছেড়েছিলেন পাবনার তিন স্কুল ছাত্রী। রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে এই তিন কিশোরী পৌঁছে যান সুদূর কুড়িগ্রামে। শেষ পর্যন্ত পথ হারিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের তৎপরতায় নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরেছেন তারা।
ঘটনার শিকার ছাত্রীরা পাবনা সদর উপজেলার চর আশুতোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। সোমবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিজ নিজ পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ১০টার দিকে ওই তিন ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে পাবনা বাস টার্মিনাল গিয়ে নাতোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামগামী একটি বাসে ওঠে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশ ছেড়ে নতুন এক জীবনে পা বাড়ানো। যাত্রাকালে তাদের একজন বাড়ি থেকে জমিয়ে রাখা প্রায় ১ লাখ টাকা সাথে নিয়ে যান।
রোববার সন্ধ্যার দিকে তারা কুড়িগ্রামে গিয়ে পৌঁছায়। অচেনা এলাকায় রাতের আশ্রয়ের খোঁজে ঘোরাঘুরির সময় তাদের সন্দেহজনক আচরণ চোখে পড়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) তাজ উদ্দিনের স্ত্রীর। তিনি তাদের নিজের বাড়িতে নিয়ে যান, খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের কাছ থেকে পরিবারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করেন।
অন্যদিকে, মেয়েরা সময়মতো বাড়ি না ফেরায় পাবনা সদর থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাদের স্বজনেরা। পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই তিন ছাত্রীর একজন কিছুদিন ধরে পারিবারিক কারণে মানসিক ক্ষোভে ভুগছিলেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল বিটিএস ও টিকটকের অতিরিক্ত আসক্তি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের সহায়তায় সোমবার বিকেলে উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থীদের তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিশোরীদের এ ধরনের পদক্ষেপে পরিবারের নজরদারি আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।