ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রোপার্টিজে হামলার ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দীন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এই হামলায় কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রমনা থানার সেগুনবাগিচা এলাকার একটি বাড়ি থেকে ডিবির গুলশান বিভাগের একটি দল ৬৬ বছর বয়সী এই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের করা মামলার চতুর্থ নামীয় আসামি মহিউদ্দীন। ডিবি সূত্র জানায়, দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অবৈধ সমাবেশ, দাঙ্গা, অনুপ্রবেশ, হামলা, হত্যাচেষ্টা, চুরি ও সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত কনটেন্ট নির্মাতার ওপর হামলা হিসেবে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও পরে পুলিশ জানায়, এর প্রকৃত কারণ ছিল স্টুডিওটি যে জমিতে অবস্থিত তা নিয়ে বিরোধ। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি প্রোপার্টিজ হাউজিং প্রকল্পে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে ভাড়া নেয়া জায়গায় সালমানের ব্রাউনফিশ স্টুডিও পরিচালিত হচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, স্টুডিওটি হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল না।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আগেই জানিয়েছিলেন, নিউ গিনি প্রোপার্টিজ ও মহিউদ্দীনের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হামলা হয়েছে এবং মহিউদ্দীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রাতের বেলায় সম্পত্তিতে গিয়েছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদও জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের একপক্ষে ছিল নিউ গিনি প্রোপার্টিজ এবং অন্যপক্ষে ছিলেন এক জ্যেষ্ঠ অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা।
পুলিশের ভাষ্যমতে, রাতের বেলায় একপক্ষ সম্পত্তির দখল নিতে সেখানে যায় এবং ব্যাপক এই হামলার সময় ব্রাউনফিশ স্টুডিও ভাঙচুরের শিকার হয়। নিউ গিনি প্রোপার্টিজের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া আলাদাভাবে অভিযোগ করেছেন, এই হামলা ছিল সম্পত্তি দখলের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। তার দাবি অনুযায়ী, হাউজিং প্রকল্প থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ লুট করা হয়েছে, যদিও এই পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
প্রাথমিকভাবে সালমান মুক্তাদির ভাঙা আসবাবপত্র ও সরঞ্জামের ভিডিও পোস্ট করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেছিলেন। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাঁদা দাবি করেননি।
এদিকে ঘটনাটি এখন একটি পৃথক আর্থিক মোড় নিয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তলব করেছে। তলব করা নথির মধ্যে রয়েছে হিসাব খোলার ফরম, নো-ইওর-কাস্টমার (কেওয়াইসি) তথ্য ও হিসাব বিবরণী।