বালিয়াডাঙ্গীতে চাতালের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

Share

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে চাতালের জমি দখলের চেষ্টা, সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোঃ শাহিন আলম বালিয়াডাঙ্গী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রত্নাই (কাশিবাড়ী) গ্রামের মোঃ শাহিন আলমের বাবা মোঃ শওকত আলী ১৯৭৮ সালের ৩ নভেম্বর ৭৪৬৪ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে জমিটির নামজারি, খারিজ খতিয়ান ও মাঠপর্চা সম্পন্ন করে তারা ভোগদখলে রয়েছেন। ওই জমিতে তাদের চাতাল রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহিন আলমের অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মোঃ বাবুল হোসেন, মোঃ হবিবর রহমান, মোঃ মন্টু আলী, বিশু মোহাম্মদ, মোঃ আনারুল হক, মোঃ সফিকুল ইসলাম, মোঃ ময়না আলী ও মোছাঃ ফেরদৌসী বেগমসহ ১৫-১৬ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার চাতালে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা চাতালের চারপাশের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর করেন এবং চাতালের ভেতরে বাঁশের বেড়া দিয়ে গর্ত খনন করে গাছের চারা রোপণের কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে শাহিন আলম ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন এবং চাতালের জমি দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে তিনি থানায় খবর দিলে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।

অভিযোগকারী আরও জানান, পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। এ কারণে তিনি বালিয়াডাঙ্গী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

অভিযুক্ত মোঃ বাবুল হোসেন বলেন, “শাহিন আলমের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই জমির মালিক আমরা।

তবে অভিযোগকারী শাহিন আলমের দাবি, ১৯৭৮ সালের দলিলের মাধ্যমে তার বাবা ওই ১৬ শতক জমি ক্রয় করেছেন এবং জমির নামজারি, খারিজ খতিয়ান ও মাঠপর্চা তাদের নামে রয়েছে। অন্যদিকে বাবুল হোসেন সহ অন্যদের কোন কাগজপত্র নেই।

এ বিষয়ে থানায় দেওয়া অভিযোগের সঙ্গে জমির দলিল, খারিজ খতিয়ান ও মাঠপর্চার ফটোকপি সংযুক্ত করেছেন অভিযোগকারী। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বিরোধ থাকায় বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।