ঢাকায় হত্যার পর মরদেহ কার্টনে মুড়িয়ে নীলফামারীতে নিয়ে মাটিচাপা

Share

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মাটি খুঁড়ে রাকিব ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঢাকায় হত্যার পর মরদেহ কার্টনে মুড়িয়ে নীলফামারীতে এনে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার খাদেমুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে ঢাকায় রাকিবের সঙ্গে ডিমলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের মামুনের পরিচয় হয়। পরে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে মামুন রাকিবকে হত্যা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের ভাষ্য, হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে কার্টনে মুড়িয়ে ডিমলায় নিজের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন মামুন। সেখানে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যান তিনি।

পরে রাকিবের পরিবারকে বিভ্রান্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ভিডিও তৈরি করেন মামুন। ওই ভিডিও ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের কাছ থেকে কিছু টাকা নেওয়ার পরও রাকিবকে ফেরত না দেওয়ায় স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে তারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিমলার বালাপাড়া গ্রামে রাকিবের মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। পরে ঢাকার একটি পুলিশ দল ডিমলায় এসে মামুনের দেখানো স্থানে মাটি খুঁড়ে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, মামুন রাকিবকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে কার্টনে মুড়িয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে মাটির নিচে পুঁতে রাখেন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডিমলায় এসে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট