সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তারেক রহমানের সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় বাংলাদেশ গভীর জাতীয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিসর রুদ্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে তাঁর ফিরে আসা গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামেরই অংশ।
পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, “উগ্রবাদী শক্তি এখন বাংলাদেশে আবার জায়গা করে নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষকে অবশ্যই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে… আমার ফেরা গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ এটি বাংলাদেশকে তার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পথে একটি পদক্ষেপ।”
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে হাসিনা ভারতে একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং কারাবরণের জন্যও প্রস্তুত। তবে বড় প্রশ্ন হলো, কীভাবে ফিরলে তা “আমাদের জাতি ও নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করবে”।
“আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই, তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে চাই এবং গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে চাই,” পিটিআইকে বলেন তিনি।
**ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের না যাওয়া প্রসঙ্গে**
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী রহমানের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে হাসিনা “অপরিণত” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাসিনা বলেন, “ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সম্মেলনে অংশ নিলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতো।”
তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া বা স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা যায় না। “বাংলাদেশের প্রয়োজন একটি পরিণত, ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী পররাষ্ট্রনীতি,” বলেন হাসিনা।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে অনূদিত