তারেক রহমান: সিম্পল, নাইস অ্যান্ড ইজি • ভদ্র ও বিনয়ী তিনি। তাঁর কোনো শব্দ, বাক্য বা বক্তব্যে কখনো আমারা অহংকারের প্রকাশ দেখি না। কাউকে হেয়, নীচ বা হীন প্রমাণের চেষ্টা দেখি না। কারো প্রতি প্রতিহিংসার বা প্রতিশোধের স্পৃহা দেখা যায় না তাঁর চলা, বলা ও কর্মকাণ্ডে।

তাঁর পোশাক পরিচ্ছদ সাধারণ। ভয়াবহ গরমে সবাই যখন দরদর করে ঘামছেন, মন্ত্রী-শান্ত্রীরা স্যুট টাই পরে যখন বেহাল, তখন তিনি গ্যাবার্ডিনের প্যান্ট আর সাদা সুতি কাপড়ের হওয়াই শার্ট পরে ফুরফুরে আছেন আর দশজন সাধারণ জনতার মতই।
প্রোটোকল ও সিকিউরিটির গাড়ি কমিয়েছেন সর্বোচ্চ সংখ্যায়। রাস্তার প্রাণান্তকর জ্যামের মধ্যে তাঁর গাড়ি আটকে থাকছে। তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এগিয়ে এসে সালাম দিয়ে তার মোবাইলে বর্ণনা দিচ্ছেন: প্রিয় বন্ধুরা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জ্যামে, তাঁর জন্যে আগের প্রধানমন্ত্রীর মত ২ ঘন্টা ধরে রাস্তা বন্ধ করে রেখে মানুষকে জান বের করা কষ্ট দেয়া হয়নি, উল্টো আমাদের তারেক স্যার নিজে কষ্ট সহ্য করছেন! তার এই ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে, ২দিন পর একই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তার প্রোফাইলে সহাস্য লাইভে জানাচ্ছেন বহু মিলিয়ন ভিউ আর কত ডলার তিনি আয় করেছেন সেই সুসংবাদ!
যখনই সফরসঙ্গীর সংখ্যা বেশি হচ্ছে, তিনি প্লেনের বদলে যাচ্ছেন সবার আগে বাংলাদেশ নামের বাসে। এক ট্রিপে যাতায়াতের খরচই বাঁচছে বহু লাখ টাকা। কোনো প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান এদেশে বাসে চড়ছেন, এমন দৃষ্টান্ত আমি কখনো দেখেছি বলে মনে করতে পারছি না।
অফিসে বিশেষ সাক্ষাতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন দেশের স্মরণীয়-বরণীয়দের। দীর্ঘ আলোচনা, পরামর্শ ও মত বিনিময় শেষে প্রাইম মিনিস্টার্স লাঞ্চে আপ্যায়িত হচ্ছেন অতিথিবৃন্দ। ১শ’ থেকে দেড় শ’ টাকার সে লাঞ্চ তারেক রহমানের কারণে হয়ে উঠছে মহার্ঘ্য খাদ্য!
মোল্লা মৌলবীরা আগে হেলাফেলার যোগ্য বলে বিবেচিত হতেন, তারেক রহমানের মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ফটো তোলা নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মালেক সাহেব যে ধমক দিয়েছিলেন তাতে সবার ধারণা ছিল উনি নিশ্চিৎ চাকরি হারাবেন। তাতো ঘটলোই না, বরং ঈদ আল আদহা জামাতে প্রধানমন্ত্রীর খালি মাথায় টুপি পরিয়ে দিলেন খতিব সাহেব! প্রধানমন্ত্রী তা গ্রহণ করলেন বিনীত ও হাসি মুখে। গত রমাদানে ইফতার মাহফিলে আবদুর রাজ্জাক ইউসুফ প্রধানমন্ত্রীর মাথায় হাত রেখে দোয়া করেছেন নিজে বসা আর প্রধানমন্ত্রী দাঁড়ানো অবস্থায়! অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রী হলে আবদুর রাজ্জাক ইউসুফের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে তাকে দেশছাড়া করতেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাসি মুখে রাজ্জাক ইউসুফের বেআদবীর জবাব দিয়েছেন অনন্য মহানুভবতায়!
আগের সরকার প্রধানরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ডাকতেন অফিসে। তিনি নিজে যাচ্ছেন ভিকটিম পরিবারের পর্ণ কুটিরে! মানুষের সাথে কথোপকথনে ঝরে পড়ছে মায়া ও যত্নের স্পর্শ। তিনি ভাব নিচ্ছেন না। তাঁকে দেখে, পাশে পেয়ে মনে হচ্ছে এমন রাষ্ট্র নায়কই তো আমরা চেয়েছিলাম। পাশের বাড়ীর সন্তান, নিকট প্রতিবেশী বা নেক্সটডোর নেইবারের মত সিম্পল, নাইস অ্যান্ড ইজি আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান!
লেখক: সৈয়দ রানা মুস্তফী — জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, অর্থনীতিবিদ এবং ৩৫ বছর ধরে প্রকাশিত ‘অর্থকথা’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক। মতামত লেখকের নিজস্ব।
[প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সৈয়দ রানা মুস্তফীর বিশেষ পর্যবেক্ষণ। সিরিজের প্রথম পর্ব]