যুদ্ধ নয়, শান্তিও নয় — মধ্যপ্রাচ্যে অস্থির সময় পার করছেন মার্কিন সেনারা

Share

 

ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার পর ১৪ সপ্তাহ পার হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন এক অদ্ভুত সংঘাতময় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে — যা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, আবার শান্তিও নয়।

মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বিভিন্ন বন্দর অবরোধ করে রেখেছে। ফলে প্রায় কয়েক দিন পরপর ইরানি বাহিনীর সঙ্গে গুলিবিনিময় হচ্ছে। গত এপ্রিলে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় রূপ নিয়েছে। ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে রেখেছে। ট্রাম্পও পাল্টা হুমকি দিয়েছেন — শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও পূর্ণ মাত্রায় বোমা হামলা শুরু হবে।

এই হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও রণতরিগুলোতে সেনাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। ঘাঁটিগুলোতে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টর মজুত রাখা, ড্রোন ও স্যাটেলাইটে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যতালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থেকে চোখের পলকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া অত্যন্ত কঠিন।’

এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৪০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের একজন ৩৭ বছর বয়সী সার্জেন্ট কোরি হিকস। যুদ্ধের শুরুতে ইরানি ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি — কয়েক মিনিটের জন্য হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিস্ফোরণের স্প্লিন্টারে ধমনি ছিঁড়ে ও চোয়াল ভেঙে যায়। এখন তিনি ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে ভুগছেন, যা সারা জীবন তাঁকে ভোগাতে পারে। হিকস বলেন, ‘সার্জেন্ট আমোর আমার থেকে মাত্র ১০ ফুট দূরে ছিলেন, যখন ড্রোনটি আঘাত হানে। এই দুঃসহ স্মৃতি আমাকে বাকি জীবন বয়ে বেড়াতে হবে।’

দেশের ভেতরে পেন্টাগন ফুরিয়ে আসা গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্রের মজুত বৃদ্ধিতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টরের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। বিদেশে মোতায়েন সেনাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন, কারণ মোতায়েনের মেয়াদ বারবার বাড়ানো হচ্ছে।

চলমান সংঘাত ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়ও টান ধরিয়েছে। মে মাসে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজন মনে করেন এই সামরিক অভিযানের সার্থকতা আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করছে, তবে পারমাণবিক কর্মসূচির মতো মূল বিষয়গুলো অমীমাংসিতই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।