বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৭৪ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৬৭ রুপি কমানো হয়েছে। শুক্রবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, এই মূল্য হ্রাসের ফলে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ৩৭৩ রুপি থেকে কমে দাঁড়াবে ২৯৯ রুপিতে, আর ডিজেলের দাম ৩৭৮ রুপি থেকে নেমে আসবে ৩১১ রুপিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, সংকটকালীন সময়ে সাধারণ মানুষকে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি থেকে রক্ষা করতে ফেডারেল সরকার উন্নয়ন বাজেট ও সাশ্রয়কৃত তহবিল থেকে ১২৯ বিলিয়ন রুপি ভর্তুকি হিসেবে ব্যয় করেছে। তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা সত্ত্বেও কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারগুলোর সমন্বয়ে পাকিস্তানে কোনো জ্বালানি সংকট তৈরি হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মূল্য হ্রাসের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ পাকিস্তানের মধ্যস্থতা, যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটে। চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল পুনরায় শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, ফলে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই তেলের দাম সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে আসে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক তেল সংকটের কারণে গত মার্চ-এপ্রিলে কয়েক দফায় জ্বালানির দাম বাড়িয়েছিল পাকিস্তান সরকার, বিশেষত এপ্রিলে পেট্রোলের দাম রেকর্ড ৪৫৮ দশমিক ৪ রুপিতে উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এবারের প্রায় ৭০ রুপির এই মূল্যহ্রাসকে মূল্যস্ফীতিতে জর্জরিত সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।