ভেনেজুয়েলায় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনো আটকে থাকা জীবিতদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পরপর ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে। রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় শহর লা গুয়ারায় বহু ভবন ধসে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়ারায় একটি ১০ তলা হোটেল পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
কারাকাসের একটি ধসে পড়া ভবন থেকে এ পর্যন্ত ১১ জনের মরদেহ ও ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর অন্তত ৩০টি পরাঘাত অনুভূত হওয়ায় মানুষের আতঙ্ক আরও বেড়েছে। অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরতে ভয় পেয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মাইকেতিয়া গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, এ দুর্যোগে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ৪২ শতাংশ। ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি।
যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে এবং উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সহায়তা ও মানবিক ত্রাণ পাঠাচ্ছে। মেক্সিকো, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, এল সালভাদর ও কাতারও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি