ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে চলমান নানা জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তাঁর মতে, ব্যাংকটি নিয়ে অতিরিক্ত অনুমাননির্ভর আলোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, তাই সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অনুরোধ জানান তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ২০২৬ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত স্পেকুলেশন হচ্ছে বলে তাঁর কাছে মনে হচ্ছে, তাই সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি দেখার অনুরোধ জানান তিনি।
ব্যাংক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তার তথ্য তুলে ধরে গভর্নর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন ব্যাংককে মোট ১৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেড়ে দাঁড়ায় ৫১ হাজার কোটি টাকায়। তিনি জানান, তাঁরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চার মাস কোনো ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিতে হয়নি, যা তাঁদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এর মধ্যেই ইসলামী ব্যাংককে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিতে হয়েছে বলে জানান গভর্নর।
মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবে কোনো সিদ্ধান্তই আইনের বাইরে গিয়ে নেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি ব্যাংকিং কোম্পানি এবং তা ব্যাংক কোম্পানি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, ফলে আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করা হবে না।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে নতুন মুদ্রানীতির মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আর্থিক খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।