ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ে ‘খুশির নাচ নাচলেন’ মার্কিন কর্মকর্তা, উঠছে নানা বিতর্ক

Share

কোনো ম্যাচ না হেরেও বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে হতাশাজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে ইরানকে। নিজেদের তিনটি ম্যাচই ড্র করায় সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ ছিল তাদের, কিন্তু আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচ নাটকীয়ভাবে ৩-৩ গোলে শেষ হওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। ওই ম্যাচে যেকোনো একটি দল জিতলেই শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত হতো ইরানের।

আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচে ইনজুরি সময়ে পরপর দুই গোল এবং তার জেরে ইরানের বিদায় নিয়ে এখন নানা জল্পনা চলছে, এমনকি উঠেছে ফিক্সিংয়ের অভিযোগও। এর মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান মার্কওয়েন মুলিন। তিনি বলেন, তাদের বিদায়ে তিনি খুশি এবং তারা আর ফিরবে না বলেও মন্তব্য করেন।

মুলিন আরও জানান, ইরানি দলের ভিসা বাতিল হওয়া এবং তাদের মার্কিন মাটি ছাড়তে হওয়ার খবরে তিনি বেশ সন্তুষ্ট। নিজের প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, খুশিতে হয়তো গানও গেয়েছিলেন বা নেচে উঠেছিলেন, এবং মন্তব্য করেন যে ইরানের মতো নির্দিষ্ট কোনো দলের জন্য তাদের এতটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কখনো ভাবতে হয়নি।

আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়া ম্যাচের বিতর্ক ছাড়াও ইরানের খেলায় রেফারিদের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর পাশাপাশি দলটির ভ্রমণসূচি নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান রাজনৈতিক বিরোধ থাকা সত্ত্বেও তাদের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে। মেক্সিকোতে দলের বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হলেও তাদের প্রতিটি ম্যাচের আগের দিন মার্কিন ভূমিতে গিয়ে খেলা শেষেই আবার মেক্সিকোয় ফিরে আসতে হতো, যা নিয়ে ইরানের কোচ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে যথেষ্ট ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ে ইরানের কোচ আমির ঘালেনোই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের দলের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছে এবং প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় অনুশীলনের অর্ধেকেরও কম সুযোগ দিয়েছে। একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরান ফুটবল দলের অধিনায়ক মেহদি তারেমিও, তাঁর ভাষায় এ ধরনের চাপ বিশ্বকাপের আনন্দ ম্লান করে দেয় এবং তাঁরা প্রথম থেকেই সেই চাপ অনুভব করেছিলেন।