ভেনেজুয়েলায় পরপর আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও সবচেয়ে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে এখনো শেষ হয়নি উদ্ধারকাজ, বাকি রয়ে গেছে সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাবও।
সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫-এ, আর এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার হিসাব বলছে, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে ধ্বংসস্তূপের নিচে কাউকে জীবিত পাওয়ার আশা প্রায় নেই বললেই চলে—উদ্ধারকর্মীরা এখন মূলত মরদেহ উদ্ধারেই মনোযোগ দিচ্ছেন, আর স্থানীয়রা এখনো খুঁজে ফিরছেন হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের। গত মঙ্গলবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিলেন।
সরকারি হিসাবে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে বলে জানানো হলেও নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ বলছে প্রকৃত সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি—প্রায় ৫৯ হাজার, যার মধ্যে রয়েছে হাসপাতাল ও স্কুলের মতো স্থাপনাও।
এদিকে প্রবাসী ভেনেজুয়েলানরা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সহায়তা চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন, পাশাপাশি উদ্ধারকাজে দেরি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সরকারের কাছে। এমনই একটি ঘটনায় স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দুই চাচাতো ভাইবোন কারাবায়েদা শহরে ধসে পড়া সাততলা ভবনে বসবাসকারী তাঁদের দাদা-দাদির খোঁজ পেতে সাহায্য চেয়েছেন। স্পেনপ্রবাসী নাতনি জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীদের ভাষ্যমতে দাদা-দাদিকে খুঁজে পেতে সরাতে হবে অন্তত দশটি বিশাল কংক্রিট স্ল্যাব, যে কারণে পরিবারটি এখন খুঁজছে ক্রেন ও ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো থেকে নাতি জানান, ভবনের ধসে পড়ার ধরন বিবেচনায় ক্রেন ছাড়া নিরাপদে ধ্বংসস্তূপ সরানো কার্যত অসম্ভব।
পরিস্থিতি সামলাতে গত রোববার একটি নতুন সামরিক ইউনিট গঠন করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ, যার দায়িত্ব হবে জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তদারকি করা। উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের আগে থেকেই তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ছিল লাতিন আমেরিকার এই দেশ। দীর্ঘদিনের দুর্বল জনসেবা কাঠামো, খাদ্য সংকট ও দারিদ্র্যের কারণে আগে থেকেই প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল, যা ভূমিকম্পের পর আরও তীব্র আকার নিয়েছে।
এই দুর্যোগে গৃহহীন হয়েছেন ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। গত সপ্তাহান্তে সরকার লা গুয়াইরায় একটি সরকারি আবাসন প্রকল্পের পুনর্নির্মাণকাজ শুরু করেছে। সেখানকার এক বাসিন্দা এস্টার বিরিয়ের জানান, কর্তৃপক্ষ তাঁদের আশ্বাস দিয়েছে যে তিন মাসের মধ্যে—কখনো কখনো তারও আগে—পুনর্নির্মাণ শেষ করে আবার অ্যাপার্টমেন্ট বুঝিয়ে দেওয়া হবে, আর নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া প্রথম ভবনটিই তাঁদের নিজেদের।
তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ