২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফল প্রকাশের সব প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দুটি পদ্ধতিতে ফলাফল জানতে পারবেন।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজ সকালে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থী। বৃত্তিপ্রাপ্তদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে।
সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া অন্যান্য জেলায় গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা নেওয়া হয়, আর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা হয় ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। এবার মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি, যার মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ সরকারি এবং প্রায় ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
অনলাইন ও এসএমএসে মিলবে ফল
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফল প্রকাশের পর অভিভাবকরা অনলাইন ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে ফল দেখার সরকারি মাধ্যম হলো ‘আইপিইএমআইএস’ (IPEMIS) পোর্টাল।
বৃত্তির সংখ্যা ও অনুপাত
মেধাক্রম ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক হিসাবে মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তির মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ৬৬ হাজার এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১৬ হাজার ৫০০টি। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর অনুপাত হিসাবে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রতি আট জনে একজন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রতি সাড়ে পাঁচ জনে একজন বৃত্তি পাচ্ছে।
কে কত টাকা, কতদিন পাবে
মোট ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী পাবে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি, আর বাকি ৪৯ হাজার ৫০০ জন পাবে সাধারণ বৃত্তি। বর্তমান হার অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ৩০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে, আর সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা পাবে মাসিক ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা। পঞ্চম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী দুই বছর এই আর্থিক সহায়তা পাবে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।