হবিগঞ্জে পদযাত্রা কর্মসূচি চলাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার রাতে দলের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি সাংগঠনিক নির্দেশনায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা এবং নেতা-কর্মীদের মারধরের ঘটনা ঘটে, যার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করেছে এনসিপি। এরপর সন্ধ্যায় শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করলে ফের সংঘর্ষ বাধে, যাতে দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ একাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।
এনসিপির যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত নির্দেশনায় হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বুধবার দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। দলের সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় বিক্ষোভ আয়োজনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে নির্দেশনায়, পাশাপাশি কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নে নেতা-কর্মীদের সময়মতো উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের দিকে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়, তবে চালক দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে পৌঁছে যান।
এরপর পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িও ধাওয়া ও ইটপাটকেলের শিকার হলে তা শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যাংক ভবন ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন, পরে রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।
এনসিপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এমনকি দলের মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে ঢুকলে সেখানেও হামলাকারীরা প্রবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সাংবাদিকদের মুঠোফোন-ক্যামেরা কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী হকিস্টিক, রামদা ও চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছেন। পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কার্যকর ভূমিকা রাখেনি বলে দাবি করেন তিনি। হামলায় দলের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি, কারও কারও হাত-পা ভাঙার কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে হামলার প্রতিরোধে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং সংঘর্ষের কারণে শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
পাল্টা বক্তব্য ছাত্রদলের
হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান পাল্টা দাবি করেন, সমাবেশে এনসিপি নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং তার জেরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে তাঁর মন্তব্য।