ঢাকা, ২৯ জুলাই: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া এই মামলার বাদী মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন।
তিনি জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. আবু সাঈদ গত ২৮ জুলাই আসামি কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সঙ্গে কলিমউল্লাহর সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হেফাজতে রাখা প্রয়োজন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন ভুক্তভোগী সাব্বির। গত বছরের ১৯ জুলাই বিকেলে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন রবীন্দ্র সরণি এলাকায় অবস্থানকালে অস্ত্রধারী আসামিরা ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত গুলি চালায় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে একটি গুলি সাব্বিরের বাঁ হাতের কনুই ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। আহত সাব্বিরকে প্রথমে উত্তরার একটি হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। পরে তিনি বাদী হয়ে থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন
গত বছরের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওইদিনই তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।
এদিকে গত ২৭ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া পৃথক মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমার শর্তে কলিমউল্লাহর জামিননামা দাখিল করেন তার আইনজীবীরা। এ প্রসঙ্গে তার আইনজীবী মহসিন রেজা বলেন, গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পান, যেখানে এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। ওই শর্ত পূরণ করে জামিননামা দাখিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, অন্য কোনো মামলা না থাকলে কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।
তবে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর হলে তা তার মুক্তিতে জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে আইনি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।