ফাইল ছবি: এএফপি

ইরানে ফের ‘শক্তিশালী’ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জবাব

Share

ইরানের একাধিক এলাকায় নতুন করে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার জবাবেই এই পাল্টা অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, গত মঙ্গলবার জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত জাহাজে হামলা চালায় ইরান। এর জবাবে ইরানকে ‘শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া’ দেখানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এর একদিন আগেই ইরাকের ভূখণ্ডে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। তার ঠিক পরদিনই ইরানের ভেতরে নতুন হামলার খবর এল।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, কেশম দ্বীপে তিনটি স্থানে এবং বুশেহর প্রদেশেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ছাড়া খুজেস্তান প্রদেশের আবাদান, হোরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস, আবু মুসা, সিরিক ও কিশ শহরেও হামলা হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। কিন্তু পাঁচ মাস পার হলেও যুদ্ধ থামার লক্ষণ নেই। সপ্তাহজুড়ে কয়েক দিন পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকার পর তা আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

কূটনৈতিক সমাধানের আশায় সাম্প্রতিক দিনগুলোয় উভয় পক্ষ হামলা থেকে বিরত ছিল এবং নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছিল। ট্রাম্প এই আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করলেও ইরান নতুন করে আলোচনায় বসার বিষয়টি স্বীকার করেনি। সেন্টকমের হামলার ঘোষণার কিছু সময় আগেই মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময় এসেছে এবং ইরান নিজেও এই আক্রমণের আশঙ্কা করছিল। তাঁর দাবি, হামলা না চালানোর জন্য ইরানের পক্ষ থেকে অনুরোধও এসেছিল।

অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়াতেই তারা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানঘাঁটি ও একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি তেলবাহী তিনটি ট্যাংকারে হামলার কথাও নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। তাদের ভাষ্যে, ট্যাংকারগুলো সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে প্রণালির অনিরাপদ ও অবৈধ পথ ব্যবহার করছিল।

উল্লেখ্য, এর আগে টানা ১৩ রাত হামলা চালানোর পর গত শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় দেশটি জানিয়েছিল, ইরানের অস্ত্র ভান্ডার ও সামরিক স্থাপনাগুলোই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। ওই হামলায় বহু হতাহতের খবরও পাওয়া গিয়েছিল। তবে সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই সেই অবস্থান থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অভিযানে নেমেছে।