আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ও তার দুই সহকারীকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে ছড়িয়ে পড়া খবর সম্পূর্ণ ভুয়া বলে জানিয়েছে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট। প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইট উইকলি ব্লিটজের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী একাধিক এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে এই দাবি করলেও যাচাইয়ে দেখা গেছে, বিক্রমপুরী জীবিত ও সুস্থ আছেন।
দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শোয়েব চৌধুরী তার পোস্টে বিক্রমপুরীর মৃত্যুর পাশাপাশি তিনি ২১২ জন হিন্দু নারীকে অপহরণ করেছেন, মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের জিহাদি প্রশিক্ষণ দেন এবং পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, বিক্রমপুরী নিহত হননি। তিনি দ্য ডিসেন্টকে জানান, ঘুম থেকে উঠে নিজের মৃত্যুর খবর দেখে তিনি বিস্মিত হন এবং অনেকেই তাকে এ নিয়ে ফোন করছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শোয়েব যেদিন রাত সাড়ে ৭টায় বিক্রমপুরীর মৃত্যুর তথ্য দেন, তার সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১১টায় বিক্রমপুরী নিজেই ফেসবুক পোস্টে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা জানান। এমনকি পরদিন সকালে তিনি নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ ভিডিওতেও কথা বলেন।
দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই গুজব প্রথম ছড়ান ইন্ডিয়ান-আমেরিকান লেখক শ্রী আইয়ার, যিনি তার প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট PGurus.com-এর ফেসবুক পেজে এক ভিডিওতে বিক্রমপুরীর মৃত্যুর দাবি করেন এবং তার দুই সহযোগীকেও “নির্মূল” করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এই ভিডিওর রেফারেন্স দিয়েই পরে শোয়েব চৌধুরী তার পোস্টগুলো দেন। বিক্রমপুরীর লাইভ ভিডিও প্রকাশের পরও শোয়েব দাবি অব্যাহত রেখে বলেন, প্রি-রেকর্ডেড ভিডিওকে লাইভ হিসেবে প্রচার করা কারিগরিভাবে সম্ভব বলে তিনি জেনেছেন।
২১২ জন হিন্দু নারী অপহরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে দ্য ডিসেন্ট জানায়, শোয়েব বা শ্রী আইয়ার কেউই এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। বিক্রমপুরী নিজেও এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে দাবি করেছেন।
দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, শোয়েব চৌধুরী অতীতেও একাধিকবার বাংলাদেশ ও ইসলামপন্থীদের নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে এআই-নির্মিত ভিডিওকে নোয়াখালীর মাদ্রাসা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের খবর হিসেবে প্রচার এবং মেট্রো স্টেশনে পাওয়া সাধারণ বস্তাকে বিস্ফোরক ডিভাইস বলে দাবি করা, যা যাচাইয়ে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়।