আ.লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ কুমারখালীর ইউএনওর বিরুদ্ধে, কার্যালয় ঘেরাও

Share
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের নামে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ‘কুমারখালী পতিত স্বৈরাচার বিরোধী নাগরিক সমাজের’ ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ এবং ইউএনওর কার্যালয ঘেরাও কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা ছাত্রদল।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (৯ আগষ্ট) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন। এ অবস্থায় দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে ইউএনও কার্যালয়ের গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দ্বিতীয় তলায় দাঁড়িয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের আশ্বাস দিলে দুপুর ১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর ত্যাগ করেন আন্দোলনকারীরা। তবে এ সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওকে অপসারণের সময়সীমা বেঁধে (আলটিমেটাম) দেন তারা।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহানুর রহমান ও সদস্য সচিব আবু কাউসার অপুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সংরক্ষিত মহিলা এমপির প্রতিনিধি সাজেদা পারভিন, পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর, কুমারখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হৃদয় হোসেন, উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা, কুমারখালী পৌর ছাত্রদল নেতা কামরুজ্জামান সোয়াদসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েক শ নেতা-কর্মী অংশ নেন।
এ সময় পান্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কুদরতে নুর বলেন, ‘বিএনপির ফ্যামেলিতে আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই নিয়োগ বাতিল করে বিএনপির লোকদের নিয়োগ দিতে হবে। না হলে দুর্বার আন্দোলন করা হবে।’
উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা আন্দোলন কমিটির সাবেক মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম তিহা বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ধরে ধরে আওয়ামী লীগের লোকদের নিয়োগ দিয়েছে ইউএনও। এই ইউএনওকে আর আমরা চাই না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের বলা হয়েছে তথ্য প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কুষ্টিয়া জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ( উপসচিব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, ডিসি স্যারের নির্দেশনায় কুমারখালীতে গিয়েছিলাম। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা হয়নি। ইউএনওর অপসারণের বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। ফ্যামেলি কার্ড বিষয়ের সমস্যা সমাধানে ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ