পরিবহন শ্রমিক নেতা মজিবুর রহমান মুজিবকে গ্রেপ্তার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দিনাজপুরে সড়ক অবরোধ ও অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছেন শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও থানার সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন তারা, যার ফলে দূরপাল্লার কোচসহ বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, অবিলম্বে মুজিবকে মুক্তি দিতে হবে এবং তাকে নির্যাতনের অভিযোগে সিআইডি পরিদর্শক নওবুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর নবীকে অপসারণ করতে হবে।
শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসির কক্ষে মামলার তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার সময় সাদা পোশাকে থাকা সিআইডি পরিদর্শক নওবুর রহমানের সঙ্গে মজিবুরের বাগবিতণ্ডা হয়, এক পর্যায়ে তিনি ওই কর্মকর্তাকে থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে এবং দুঃখ প্রকাশের পরও মারধর করা হয় বলে দাবি শ্রমিকদের। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
শ্রমিক নেতাকর্মীরা পুলিশ কর্মকর্তাকে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিরোধিতা করছেন না, তবে নির্যাতনের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে নিমনগর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড, দিনাজপুর সরকারি কলেজ মোড়, মেডিকেল মোড়, বালুয়াডাঙ্গা মোড়সহ কোতোয়ালি থানার মোড়ে অবরোধ চলে, যাতে অংশ নেন দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা।
শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী বিচার মেনে নিতে তাদের আপত্তি নেই, তবে আটকের পর নির্যাতনের অভিযোগ মেনে নেওয়া যায় না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম জানান, সাধারণ যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছে।
সূত্র: কালবেলা