নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের বারইচতল গ্রামের অটো রাইস মিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন—বারইচতল গ্রামের হোসেন মাস্টার বাড়ির মো. তহিদুল ইসলাম খোকনের ছেলে সাকিবুল হাসান (১৭), আলাউদ্দিন হাজী বাড়ির কফিল শিপনের ছেলে মো. নাদিম (১৭) এবং মো. হোসেনের ছেলে মো. সাহের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নাদিম, সাকিব ও সাহের মোটরসাইকেলে করে বাংলাবাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা মুখোশধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর বাংলাবাজার এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে এর আগে গত সোমবার বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।
এই ঘটনায় উপজেলা জামাতের আমির মো. আবু জায়েদ অভিযোগ করে বলেন, ‘যুবদল নেতা হারুনের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মী ও সমর্থকদের ওপর এ হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও হারুনের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র মাদকসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। হারুনকে আইনের আওতায় আনলে এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ঘটনায় যুক্ত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে বেগমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মহি উদ্দিন রাজু জামায়াতের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে গোপালপুর ইউনিয়নের যুবদল কর্মী সোহেলকে গুলি করে ছাত্রশিবির। এ ছাড়া জামায়াত-ছাত্রশিবির আমান উল্লাহপুর, আলাইয়াপুর ও ছয়ানীতে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর একাধিকবার হামলা ও গুলি চালায়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে যুবদলের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াত ও শিবিরের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনা আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এ ঘটনায় আমাদের দলের কেউ সম্পৃক্ত নেই। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিচার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং হাসপাতালে দুজনকে দেখে আসছি। একজনের পিঠে অন্যজনের হাতের মধ্যে স্প্লিন্টারের আঘাত রয়েছে। দুজন বাংলাবাজার মামুন কসমেটিকসে চাকরি করেন। ’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনার পূর্বে বাংলাবাজারে কয়েকটি ককলেট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার পর আহতরা বাড়ি ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে এদের কাহারো রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি। এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তথ্যসূত্র: কালবেলা