মিল্টন সমাদ্দারের যত অপকর্ম

Share

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত মিল্টন সমাদ্দারকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ প্রথম সামনে আনে দৈনিক কালবেলার ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল কালবেলায় প্রকাশিত ‘মানবিক মুখোশের আড়ালে ভয়ংকর মিল্টন সমাদ্দার’ ও ‘জীবনের ধাপে ধাপে প্রতারণা’ শিরোনামের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরই তাকে নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।

এরপর একে একে সামনে আসে ডেথ সার্টিফিকেট জালিয়াতি, মানবপাচার, আশ্রিতদের নির্যাতন, মরদেহ দাফনের হিসাবের গরমিল, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির অভিযোগ, আর্থিক অনিয়ম, জমি দখল, চার্চ দখলের চেষ্টা এবং চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অভিযোগ।

কালবেলার অনুসন্ধানের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তদন্তে নামে; একপর্যায়ে গ্রেপ্তার হন মিল্টন সমাদ্দার এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও চার্জশিটও দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকার পর এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধরের অভিযোগে আবারও সামনে এসেছে সেই পুরোনো অভিযোগগুলোর প্রসঙ্গ।

মানবতার পরিচয়ে মিল্টন

বরিশালের উজিরপুরের বাসিন্দা মিল্টন সমাদ্দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় দেন। এগুলো হলো চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার, চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার ফাউন্ডেশন এবং মিল্টন হোম কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড।

তার দাবি, রাস্তায় পড়ে থাকা অসহায় বৃদ্ধ ও শিশুদের খুঁজে বের করা তার নেশা ও পেশা। মানুষের অনুদান এবং নিজের ব্যবসার অর্থে তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করেন তিনি। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের বাবা-মা এবং শিশুদের সন্তান বলে সম্বোধন করতেন মিল্টন।

তার ফেসবুক পেজে ১০টির বেশি মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরের মাধ্যমে অনুদানও সংগ্রহ করা হতো। মানবিক কাজের জন্য তিনি পেয়েছেন তিনটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।

ডেথ সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগ

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো ভুয়া ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি। ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি নিজে স্বাক্ষর দিয়ে ভুয়া ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি করতেন।

জালিয়াতির মাধ্যমে ডেথ সার্টিফিকেট তৈরির মামলায় মিল্টন সমাদ্দার ও তার হেলথ কেয়ারের ম্যানেজার কিশোর বালাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২০ ধারা, ডকুমেন্ট জালিয়াতির অভিযোগে ৪৬৭ ধারা, ভুয়া স্বাক্ষর করে ডেথ সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগে ৪৬৮ ধারা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ৪৭১ ধারায় অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

৯০০ মরদেহ দাফনের দাবিতে গরমিল

মিল্টন সমাদ্দার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ৯০০ মরদেহ দাফন করেছেন বলে দাবি করেছিলেন। তার দাবি ছিল, এর মধ্যে ৬০০ জন তার আশ্রমে মারা গেছেন এবং বাকি ৩০০ মরদেহ রাস্তা থেকে এনে দাফন করেছেন।

তবে কালবেলার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ৫০টি মরদেহ দাফনের তথ্য পাওয়া যায়। রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পাওয়া যায় প্রায় ১৫টি মরদেহ দাফনের প্রমাণ। আজিমপুর কবরস্থানে তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো মরদেহ দাফন হয়নি বলে সেখানকার দায়িত্বশীলরা নিশ্চিত করেন।

ডিবির তদন্তেও তার দাবির সঙ্গে বাস্তব হিসাবের গরমিল উঠে আসে। ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানিয়েছিলেন, ৯০০ মরদেহ দাফনের কথা প্রচার করলেও জিজ্ঞাসাবাদে মিল্টন মাত্র ১০০ মরদেহ দাফনের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এরও কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেননি।

ডাক্তার না হয়েও অস্ত্রোপচারের অভিযোগ

ডিবির চার্জশিটে বলা হয়েছে, রাস্তায় অসুস্থ, পচা-গলা, প্যারালাইজড বা অভিভাবকহীন মানুষকে আশ্রমে এনে মিল্টন নিজেই তাদের ক্ষত পরিষ্কার করতেন।

তার প্রতিষ্ঠানের অপারেশন থিয়েটারে তিনি নিজেই ছুরি ও ব্লেড দিয়ে কাটাছেঁড়া করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রয়োজনে হাত-পা কেটে ফেলতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, মিল্টন জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন বৃদ্ধের হাত, পা ও আঙুল কেটে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন। হাত-পা কাটার সময় ভুক্তভোগীর কান্না, যন্ত্রণা ও রক্ত দেখে তিনি পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করতেন বলেও ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

আশ্রমে নির্যাতনের অভিযোগ

ডিবির তদন্তে আশ্রমের বাসিন্দাদের নির্যাতনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও প্যারালাইজড মানুষদের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

অনেক সময় তাদের শরীরে আঘাত করে ক্ষত তৈরি করা হতো এবং পরে মিল্টন নিজেই সেই ক্ষত অপারেশন করে সেলাই করতেন বলে তদন্তে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রমের ভেতরে একটি ‘টর্চার সেল’ ছিল। সেখানে লাঠিসোঁটা, পাইপসহ মারধরের নানা উপকরণ রাখা থাকত।

কিডনি ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির অভিযোগ

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে আশ্রয় দেওয়া অসহায় মানুষের কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির অভিযোগও ওঠে। এ অভিযোগের পক্ষে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মরদেহে কাটাছেঁড়ার দাগ দেখার দাবি করেন।

দক্ষিণ পাইকপাড়ার বায়তুর সালাম জামে মসজিদে একসময় আশ্রম থেকে আসা মরদেহ বিনামূল্যে গোসল করানো হতো। মসজিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রায় প্রতিটি মরদেহের বিভিন্ন স্থানে কাটাছেঁড়ার দাগ দেখতে পান বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর মিল্টন ওই মসজিদে মরদেহ পাঠানো বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় মাদ্রাসার পরিচালক তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করেন, আশ্রমে আনার পর যাদের কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ভালো থাকত, তাদের চিকিৎসা করানো হতো; পরে সুস্থ হলে তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নেওয়া হতো।

যদিও কিডনি বিক্রির অভিযোগ মিল্টন সমাদ্দার অস্বীকার করেন। তার পক্ষে বলা হয়, মৃতদের শরীরে কোনো কাটাছেঁড়ার চিহ্ন ছিল না। একজন চিকিৎসকও দাবি করেন, কিডনি অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জনবল ও সক্ষমতা ওই আশ্রমে নেই।

আর্থিক হিসাবে অস্বচ্ছতার অভিযোগ

মিল্টন সমাদ্দারের ৫টি ফেসবুক পেজে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ১৬টি নম্বর দেওয়া ছিল। এ ছাড়া ৩টি বেসরকারি ব্যাংকে খোলা হিসাবের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন চলত বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসব মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। অথচ সরেজমিনে আশ্রমগুলোতে তুলনামূলক কমসংখ্যক মানুষ থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

ডিবির তদন্তে মিল্টনের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৮০ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৩ টাকা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ আরও জানিয়েছিলেন, মিল্টনের ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ছিল।

আশ্রিতের সংখ্যা নিয়েও গরমিল

মিল্টন সমাদ্দার একসময় জানান, তার আশ্রমে ১৩০ জন নারী, ১২৬ জন পুরুষ, ৪২ জন প্রতিবন্ধী শিশু, মানসিক ভারসাম্যহীন মায়েদের ছয় সন্তান এবং তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া সাতটি শিশু রয়েছে। তার হিসাবে মোট আশ্রিতের সংখ্যা ৩১১ জন।

কিন্তু কালবেলার সরেজমিন অনুসন্ধানে সাভারের আশ্রমে দ্বিতীয় তলায় তিনজন, তৃতীয় তলায় দুজন এবং চতুর্থ তলায় তিন থেকে চারজনকে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, সেখানে সর্বোচ্চ ২৫-৩০ জন থাকতে পারেন।

পাইকপাড়ার আশ্রমে গিয়ে প্রায় ২০ জনের মতো লোক থাকার তথ্য পাওয়া যায়।

পরবর্তীকালে মিল্টন সমাদ্দার নিজেই কালবেলাকে বলেন, সাভারের আশ্রমে বর্তমানে ২৫৬ জন লোক আছে।

জমি দখলের অভিযোগ

সাভারের বাহেরটেকে জমি দখলকে কেন্দ্র করে মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী সামসুদ্দিন চৌধুরীর পরিবার অভিযোগ করে, জমি বিক্রি না করায় মিল্টনের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় সামসুদ্দিন চৌধুরীর একটি চোখ নষ্ট হয় এবং তার মেয়ের জামাই ফয়েজ আহমেদের হাতের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় মিল্টন সমাদ্দারকে প্রধান আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা করা হয়।

স্থানীয় হেমন্ত রোজারিওর অভিযোগ, তার জমিও জোর করে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন মিল্টন। বাধা দেওয়ায় তাকে মারধর করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

বরিশালে চার্চ দখলের চেষ্টার অভিযোগ

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে বরিশালে ‘চন্দ্রকোনা খ্রিষ্টান মিশনারি চার্চ’ দখলের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিল-স্বাক্ষর জাল করে চার্চের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয় মিল্টন সমাদ্দারকে এবং অন্য সদস্যদের অধিকাংশই ছিলেন তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন।

পরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে চার্চের দায়িত্বশীলরা জানতে পারেন, ওই ধরনের কোনো চিঠি মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি।

চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

২০২৪ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নার্সের চাকরি দেওয়ার নাম করে মিল্টন সমাদ্দার ৩০-৪০ জনের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে নিয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, টাকা ফেরত চাইতে গেলে মিল্টন তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন।

মিল্টনের আইনজীবী ওহিদুজ্জামান অবশ্য এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। আমার মক্কেল তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারেনি বলে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আমরা এটা আইনিভাবে মোকাবিলা করব।’

মাদক সেবনের অভিযোগ

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে আশ্রমে মদ ও ইয়াবা সেবনের অভিযোগও ওঠে।

আসাদুজ্জামান তাপস নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি একসময় মিল্টনের সঙ্গে আশ্রমে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতেন এবং তাকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৫টি করে ইয়াবা এনে দিতেন।

তাপস আরও দাবি করেন, মিল্টন প্রচুর মদ পান করতেন।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ফেসবুকের সহানুভূতিকে কাজে লাগানোর অভিযোগ

মিল্টনের বিভিন্ন ফেসবুক পেজে অসুস্থ, প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক শিশু ও অসহায় বৃদ্ধদের নিয়ে ভিডিও তৈরি করে অনুদান চাওয়া হতো।

কালবেলার অনুসন্ধানে বলা হয়, তার পাঁচটি ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা ছিল ২ কোটির বেশি। ডিবির তদন্তে বলা হয়েছে, তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৬০ লাখ।

ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, দাফনের সংখ্যা যত বেশি দেখানো হতো, অনুদান সংগ্রহের পরিমাণও তত বেশি হতো।

নিজ বাবা-মাকেও মারধরের অভিযোগ

মিল্টন সমাদ্দারের ব্যক্তিজীবন নিয়েও নানা অভিযোগ উঠে আসে। স্থানীয়দের দাবি, ২০০১ সালে তিনি তার বাবা বেদু সমাদ্দারকে মারধর করেন। পরে তাকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে এলাকাবাসী জানান।

তবে নিজের বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগ তার মা ছবি সমাদ্দার একটি ভিডিওতে নাকচ করেন।

কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধরের অভিযোগে আবার আলোচনায়

দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকার পর এবার এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধরের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছেন মিল্টন সমাদ্দার।

ভুক্তভোগী কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাহিদ হাসানের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য এক বৃদ্ধ নারীকে ঢাকায় মিল্টন সমাদ্দার পরিচালিত ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গেলে তাকে মারধর করা হয়। এমনকি ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তার কাছে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি- এমন স্বীকারোক্তিও আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডিবির তদন্ত ও চার্জশিট

মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, জালিয়াতি করে ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি এবং মানব পাচারের অভিযোগে হওয়া মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেয় ডিবি।

মতিউর রহমান মল্লিককে মারধর ও হত্যাচেষ্টা মামলায় মিল্টন সমাদ্দার ও তার স্ত্রী মিঠু হালদারকে অভিযুক্ত করা হয়। ডেথ সার্টিফিকেট জালিয়াতির মামলায় মিল্টন ও ম্যানেজার কিশোর বালাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়। মানব পাচারের মামলাতেও চার্জশিট দেওয়া হয়।

হত্যাচেষ্টা ও মানব পাচার দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, ‘মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও মানব পাচার দুই মামলাতেই যে অভিযোগ ছিল তার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি।’

কারাগার থেকে জামিন, ফের অনলাইনে সক্রিয়

অভিযোগের ভিত্তিতে মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিন মামলায় জামিনে কারামুক্ত হয়ে তিনি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানবিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও পোস্ট করে অনুদান চাইতে থাকেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীকালে মতিউর রহমান মল্লিককে হত্যাচেষ্টার মামলায় আত্মসমর্পণের পর মিল্টন সমাদ্দার ও তার স্ত্রী মিঠু হালদারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

অভিযোগ অস্বীকার মিল্টনের

মিল্টন সমাদ্দার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিডনি বিক্রির অভিযোগও তিনি খণ্ডন করেন।

আর্থিক হিসাব, জমি ও চার্চ দখলের অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘আমি চিনি না। আপনি সাংবাদিক কি না, সেটা আমি কীভাবে বুঝব?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেন। আমার কোনো সমস্যা নাই, সারা দেশের মানুষ জানুক। তবে সেটা প্রোপার ইনভেস্টিগেশন করে করেন।’

তার আইনজীবীও বিভিন্ন মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলো আইনিভাবে মোকাবিলার কথা জানিয়েছেন।

মিল্টন সমাদ্দারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের নথিতে এসেছে; আবার কিছু অভিযোগ বিভিন্ন ব্যক্তি ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়।

সূত্র: কালবেলা