শূন্য সংখ্যা থেকেই জীবনের শুরু। সময়ের সঙ্গে সেই শূন্যের পাশে একে একে স্বপ্ন, সাফল্য, অর্থ, সম্পদ, সম্পর্ক, পরিচিতি, অর্জনের মতো কিছু গাণিতিক সংখ্যা যোগ করতে থাকি। এভাবে যোগ করতে করতে একসময় আবার সেই শূন্যের সঙ্গেই মিশে যেতে হয়। এই দুই শূন্যের মধ্যবর্তী সময়ে শূন্যের সঙ্গে কিছু গাণিতিক সংখ্যা যোগ করার নামই জীবন।
কিন্তু এই সংখ্যা যোগ করার নেশায় পড়ে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই-একদিন আমাদের আবার সেই শূন্যে ফিরে যেতে হবে। জীবনের সেই শেষ শূন্যটি কখন আসবে, তা আমরা কেউ জানি না। হয়তো কয়েক সেকেন্ড পর, হয়তো কয়েক বছর পর। কিন্তু আসবে-এটা নিশ্চিত।
আর সেই মুহূর্তে সারাজীবনের সংখ্যাতাত্ত্বিক সব অর্জনের হিসাব এক নিমিষে থেমে যাবে। যে অর্জনগুলোকে ঘিরে আমাদের এত আয়োজন, এত অহংকার, এত প্রতিযোগিতা, এত অনিয়ম, এত মানুষকে ঠকানো, এত অধিকার হরণ, এত দৌড়ঝাঁপ-সেসব অর্থহীন হয়ে পড়বে। আপনাকে কেউ মনে রাখবে এবং ধীরে ধীরে আপনি মানুষের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাবেন। তাই শুধু সংখ্যা যোগ করার প্রতিযোগিতায় না ছুটে, শূন্যের মূল্যটাও মনে রাখা জরুরি।
কারণ জীবনের সার্থকতা শুধু কতটা অর্জন করলাম, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এই দুই শূন্যের মধ্যবর্তী সময়টুকু কতটা ভালোভাবে নিজের জন্য বাঁচলাম, কতটা মানুষকে ভালোবাসলাম, কতটা পরপারের জন্য রেখে গেলাম আর কতটা পরপারের জন্য নিয়ে গেলাম, তার মধ্যেও নিহিত।
তাই জীবনের হিসাব মেলাতে গিয়ে জীবনকেই হারিয়ে না ফেলি। আর সবকিছু পাওয়ার প্রতিযোগিতায় মত্ত না হয়ে, যা পেয়েছি তার মূল্য দিতে শিখি, মানুষকে ভালোবাসি, মানুষের পাশে দাঁড়াই, পরপারের জন্য কিছু রেখে যাই এবং পরপারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি।
কারণ শূন্যে ফিরে যাওয়া আমাদের নিয়তি, কিন্তু সেই শূন্যে ফিরে যাওয়ার আগের জীবনটুকু কেমন হবে, তা নির্ধারণ করার সুযোগ আমাদের হাতের মুঠোয়।
মজনু সরকার
৯.১০.২০৬
ক্ষণিকালয়, ঢাকা