রেজাউল সরকার রনি

​প্রশ্নফাঁসকারীদের শাস্তি না দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা: বেকারদের সাথে এ কোন প্রহসন?

Share

গত ১০ অক্টোবর বহুল আলোচিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার দিন সকাল থেকেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। অবশেষে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ আসনে বসার ঠিক আগমুহূর্তে এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। নিরুপায় হয়ে কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

পরীক্ষা স্থগিতের পরপরই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং ওই দিনই সন্ধ্যায় জানানো হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ, পরীক্ষা বাতিলের ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হলো।

তথ্য অনুযায়ী, ২৪২টি পদের বিপরীতে এই নিয়োগ পরীক্ষায় মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার। এত বড় পরিসরের একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অগণিত পরীক্ষার্থী ঢাকায় এসেছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশই নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। যাঁদের অনেকেই টিউশনি করে জমানো টাকায় কিংবা ধার-দেনা করে ঢাকায় এসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। এখন প্রশ্ন হলো— মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর পক্ষে পুনরায় ঢাকায় এসে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত? পরিবহন খরচ, আবাসন সংকট এবং আকস্মিক মানসিক ধকলের কথা বিবেচনা করলে এটি অনেকের জন্যই প্রায় অসম্ভব এক চ্যালেঞ্জ।

তার চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো— প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত চক্র বা ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না এনে, এত দ্রুততম সময়ে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া কতটা নিরাপদ? অপরাধীদের সিন্ডিকেট অক্ষত রেখে এবং মূল হোতাদের আইনের মুখোমুখি না করে তড়িঘড়ি করে নতুন তারিখ ঘোষণা করায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর পরীক্ষা বাতিলের পর রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ তারই প্রমাণ বহন করে।

একটি দেশের যুবসমাজ ও বেকারদের স্বপ্ন নিয়ে এ ধরনের দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বিনীত আহ্বান— দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। বেকার তরুণদের মেধার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হোক; নতুবা তাড়াহুড়ো করে এই পরীক্ষা গ্রহণ বেকার সমাজের সাথে একধরনের নির্মম প্রহসনেরই নামান্তর হয়ে থাকবে।

লিখেছেন: 
রেজাউল সরকার রনি
শিক্ষার্থী।