খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের হেয়ার কাট (মুনাফা কেটে রাখা) বাতিল ও লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবিতে এদিন সকালে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে ব্যাংকটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেও তালা দিতে গেলে সেখানে হট্টগোল শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে তালা খুলে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। আমানত ফিরে পেতে এর আগেও দুই-তিন দফা চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখায় আমানতকারীরা প্রতিবাদ করেছিলেন।
দুপুর ১২টার দিকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখায় পুলিশের একটি দল আসে। এ সময় শাখা ব্যবস্থাপকের কক্ষে প্রবেশ করেন আমানতকারীরা। সেখানে কয়েক দফা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় আমানতকারীদের। একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘বাপকে বিশ্বাস করি নাই, স্ত্রীকে বিশ্বাস করি নাই, আপনাদের বিশ্বাস করে টাকা দিছি। আমার টাকা কেন দিতে পারবেন না।’
জানতে চাইলে ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক কে এম আবু সাঈদ বলেন, ‘হেয়ার কাট বাতিল ও স্বাভাবিক লেনদেন চালুর দাবিতে তাঁরা এসেছিলেন। আমরা তাঁদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছি। এখানে যাঁরা এসেছেন অধিকাংশই তৃণমূলের আমানতকারী। পুলিশ তাঁদের বোঝানোর পর তাঁরা চলে গেছেন।’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমানতকারীদের দাবিদাওয়াগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতনদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইউনিয়ন ব্যাংকের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে বেলা ২টার দিকে।’